নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তরমন্তরে শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় কয়েকজন তরুণ-তরুণী। কনট প্লেসে তাদের উপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। এক তরুণীকে রাস্তায় ফেলে লাথি ঘুষিও মারা হয়। সেই সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সরব হয় বিরোধী দলগুলি। শেষপর্যন্ত রবিবার চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতরা হিন্দু রক্ষা দল নামে একটি সংগঠনের সদস্য। তাদের নাম রমন সাইনি, বিবেকানন্দ, কপিল কুমার ও রবিন্দর সিং ওরফে গোবিন্দ হিন্দু। এরা সকলেই ভূপেন্দ্র তোমারের নেতৃত্বাধীন হিন্দু রক্ষা দলের সদস্য বলে দাবি। অনুশোচনা তো দূরের কথা। এনিয়ে বুক বাজিয়ে ভূপেন্দ্র তোমারের ঘোষণা — এরা সকলে হিন্দু রক্ষা দলের কর্মী। এটি এমন একটি সংগঠন যা সবসময় তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। যে কোনো ককরোচের মতিগতি ঠিক করার ক্ষমতা রয়েছে হিন্দু রক্ষা দলের। আর সেটাই করে যাবে আমাদের সংগঠন। এরপরই ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশ ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির বক্তব্য, অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। বিজেপি-আরএসএসের গুন্ডারা দিল্লি পুলিশের উপস্থিতিতেই একটি ছোট্ট মেয়েকে বেধড়ক মারধর করছে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ছেলে-মেয়েদের রক্ষা করার বদলে তাদের উপর হামলাকারীদের কেন সাহায্য করছে দিল্লি পুলিশ? কে তাদের এই ছাড় দিয়েছে?
ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই মারধরের ভিডিয়ো। দেখা যাচ্ছে, এক তরুণের জামা ছিঁড়ে গিয়েছে। অসহায় হয়ে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে। সমানে লাথি-ঘুষি মারছে এক দুষ্কৃতী। পরের মুহূর্তে এক তরুণীর গেঞ্জি টেনে রাস্তায় ফেলে মুখে-ঘাড়ে ঘুষি মারছেন আর একজন। বন্ধুকে বাঁচাতে এলে বাকিদের দিকে তেড়ে যায় দুষ্কৃতীরা। অথচ এই পুরো ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ। মারধরের পর্ব যখন শেষের দিকে, তখন এক পুলিশ এসে দুষ্কৃতীদের থামানোর চেষ্টা করে।



