নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দুই ছাত্রী ও তাদের দুই প্রেমিকের হানাহানিতে প্রাণ গেল এক যুবকের। ঝামেলা চরমে উঠলে গত শুক্রবার নবম শ্রেণির ছাত্রীর প্রেমিকের মাথায় বাঁশ দিয়ে মারে দশমের ছাত্রীর প্রেমিক। তার জেরেই শনিবার হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার লিলুয়া থানা এলাকার বামনগাছিতে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সাগর তিওয়ারি (১৯)। তাঁর বাড়ি জগদীশপুরের সেনপাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় মোট সাতজনের বিরুদ্ধে লিলুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত মনু শর্মা পলাতক।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সালকিয়ার একটি হিন্দি মাধ্যম স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির দুই ছাত্রীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বচসা চলছিল। কিছুদিন আগে দশম শ্রেণির ছাত্রীটি তার প্রেমিক মনু শর্মাকে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে বলে। মনু প্রেমিকার কথা শুনে নবম শ্রেণির সেই ছাত্রীকে ফোনে যাচ্ছেতাই ভাষায় অপমান করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আঁতে ঘা লাগে নবম শ্রেণির ছাত্রীর। সেও পাল্টা নিজের প্রেমিক সাগরকে অপমানের প্রতিশোধ নিতে বলে। এরপর ফোনে দুই যুবক বচসায় জড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সালকিয়ার বামনগাছি ব্রিজের কাছে হেননেস্ত করতে দলবল নিয়ে যায় দুই যুবক। ঘটনাস্থলে দুই নাবালিকাও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে তর্কাতর্কি শুরু হতেই মনু প্রায় সাত-আটজন যুবককে নিয়ে সাগরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে এলোপাথারি মারধর করা হয়। এরপর মনু আচমকা একটি বাঁশ দিয়ে সাগরের মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় সাগরকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে সাগরকে। মৃতের মা সরিতা তিওয়ারি বলেন, ‘রাতের রান্নার জন্য ছেলে মাছ কিনে এনে বাড়িতে রেখে আবার বেরিয়ে যায়। বলেছিল, বান্ধবী ফোন করে যেতে বলেছে। অনেক রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে। তারপর পরের দিন সকালে মারা যায়। কীভাবে কী হল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ মৃতের মামা রাজ পান্ডে বলেন, ‘ভাগ্নে দীর্ঘদিন ধরেই একটি মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করত। ওদের মধ্যে একটা সম্পর্ক হয়তো হয়েছিল। পুলিস সবটা তদন্ত করে দেখুক।’
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত মনু শর্মা পলাতক। তার খোঁজ চলছে। তবে এখনও কোনও নাবালিকার নামে অভিযোগ নেই। দুই ছাত্রীর পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদ
করা হচ্ছে।’