


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির সহকারী সংস্থা’ আখ্যা দিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার, এসআইআর লাগু হওয়ার প্রথম দিনেই তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সেনাপতি আরও একবার জানিয়ে দিলেন, ‘একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে ১ লক্ষ লোক নিয়ে গিয়ে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করব। ক্ষমতা থাকলে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ আটকে দেখাক।’ সেই সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০ আসনের নীচে নামিয়ে আনার শপথ নিয়ে অভিষেকের হুঙ্কার, ‘খেলা আপনারা শুরু করেছেন, শেষ করব আমরা।’ দেশের মানচিত্র তুলে ধরে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মায়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য ন’টি। তার মধ্যে এসআইআর হচ্ছে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে। কেন বাকি আটটি রাজ্যে হল না, তার জবাব নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।’ আগামী বছর পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। যার মধ্যে একমাত্র অসমে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। সেখানে কেন এসআইআর হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার থেকেই এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেদিনই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দাঁড়িপাল্লার দু’দিকে রেখে যেভাবে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অভিষেক এদিন এসআইআর-কে ‘সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আগে সরকার নির্বাচন করত ভোটাররা। এখন ভোটার নির্বাচন করছে সরকার। আসলে এসআইআরের মূল উদ্দেশ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।’ তাঁর আরও প্রশ্ন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে কী জাদুকাঠি আছে, সেটা দেখব। ২০০২ সালে এসআইআর করতে সময় লেগেছিল দু’বছর। সেটা এবার কীভাবে দু’মাসে হবে? কোনওরকম টেকনিক্যাল সাপোর্ট ছাড়া কীভাবে প্রত্যেক মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এত কম সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই সম্ভব?’ এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই অভিষেক আন্দোলন দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও তোপ দেগেছেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের পারিবারিক তথ্য হাজির করে অভিষেক বলেছেন, ‘আজ নয় তো কাল কেন্দ্রে সরকার বদলাবে। তখন দেশ ছেড়ে পালাবেন না। যেখানেই যাবেন, খুঁজে বের করব।’ এদিনই পানিহাটিতে এনআরসি আতঙ্কে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী এই মৃত্যুর জন্য দায়ী অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার। তাঁদের নামে এফআইআর হওয়া উচিত।’ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দা ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন এসআইআর নিয়ে যেন ভীত না হন, সেই আবেদনও রেখেছেন তৃণমূল সেনাপতি।