স্বাধীনতার পর ভারতের মূল লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভর হয়ে ওঠা। ভারতের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিকাজ। তাই প্রথমে কৃষিক্ষেত্রেই স্বনির্ভরতার দিকে নজর দেওয়া হয়। ধান, গমের মতো শস্যের সঙ্গে দেশে তৈলবীজ উৎপাদন যাতে বাড়ে, তার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র। তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে কম দামে ভোজ্য তেল কিনতে পারে। আর সেই লক্ষ্যেই শুরু হয় ‘হলুদ বিপ্লব’।কেন ‘হলুদ বিপ্লব’? সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল, সয়াবিন, বাদাম, তিসি, রেড়ির মতো তৈলবীজ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্ষে আর সূর্যমুখী ফুলের রং হলুদ হওয়ায় এই পুরো উদ্যোগের নাম দেওয়া হয় ‘হলুদ বিপ্লব’। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবর্ষে স্যাম পিত্রোদার নেতৃত্বে শুরু হয় ভোজ্য তেলে স্বনির্ভর হওয়ার অভিযান। তৈরি হয় অয়েল টেকনোলোজিক্যাল মিশন। নামের দিক থেকে রঙিন হলেও কাজের দিক থেকে শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জের। কারণ কৃষকদের মধ্যে তৈলবীজ চাষ করা নিয়ে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। অনেকে পরিবারের চিরাচরিত চাষবাস ছাড়তে রাজি ছিল না। এছাড়া তৈলবীজ চাষের ক্ষেত্রে রোগপোকা ও বিভিন্ন রোগের আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত বেশি। চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে তৎকালীন সরকার একাধিক পদক্ষেপ করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল কৃষকদের ইনসেন্টিভ দেওয়া। এছাড়া সেচ, সার, কীটনাশক, পণ্য পরিবহণের সুবিধা, গুদামের ব্যবস্থা ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা করা হয়। আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় অনেকেই তৈলবীজ চাষে এগিয়ে আসে। আর তারপর পাঞ্জাবে খেতের পর খেত যখন সর্ষের পাশাপাশি সূর্যমুখী ফুলে ভরে যেতে থাকল, ভারতকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় নতুন যুগ। কিন্তু শুধু উর্বর এলাকাতেই চাষ করে যে বিপ্লব আনা যাবে না, তা বুঝেছিলেন পিত্রোদা। তাই অপ্রচলিত জায়গাতেও চাষে উৎসাহ দেওয়া শুরু হয়। এর জন্য ন্যাশনাল অয়েলসিডস অ্যান্ড ভেজিটেবিল অয়েলস ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে কাজে লাগানো হয়। তৈরি হয় ৩ হাজার অয়েলসিড সোসাইটি। তাতে যুক্ত ছিলেন ১৩ লক্ষ কৃষক। হলুদ বিপ্লবের শুরুতে ভারতে প্রতি বছর ১২ মিলিয়ন টন ভোজ্য তেল উৎপাদন হতো।



