Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

যুদ্ধ ও বিচ্ছেদ  

যুদ্ধ ও বিচ্ছেদ
 
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ছয়ের দশকের শুরু। রতন টাটা তখন আমেরিকায়। নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিটেকচারে ডিগ্রি পাওয়ার পর একটি সংস্থায় কাজ শুরু করেন। শোনা যায়, সেখানে এক মার্কিন তরুণী ক্যারোলিন এমন্সের প্রেমে পড়েন তিনি। ক্যারোলিন ছিলেন আমেরিকার বিখ্যাত স্থপতি ফ্রেডরিক আর্ল এমন্সের মেয়ে। কন্যার পরিবারের তরফে রতনকে নিয়ে তেমন কোনও আপত্তি ছিল না। দু’জনের বিয়ে হওয়ার কথাও ছিল।
Advertisement
এমন সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন রতন টাটার ঠাকুমা। অগত্যা সব ছেড়ে দেশে ফিরতে হয় তাঁকে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তাঁর শৈশব তিক্ত করে দিয়েছিল। আর সেইসময় সবটা জুড়ে ছিলেন ঠাকুমা নাভাজবাই টাটা। তাঁর কাছেই বেড়ে ওঠা। তাই বড্ড কাছের ছিলেন ঠাকুমা। রতন ভেবেছিলেন, তিনি যাঁকে ভালবাসেন, সেও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরবে। বাকিটা জীবন তাঁর সঙ্গেই কাটাবে। কিন্তু বাধ সাধল ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে কিছুতেই মেয়েকে পাঠাতে রাজি হলেন না ক্যারোলিনের বাবা-মা। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের জেরে পরিণতি পেল না প্রেম। জানা যায়, পরের দিকে ওয়েন জোনস নামে একজনকে বিয়ে করেন ক্যারোলিন। তবে প্রেমে বিচ্ছেদ, বিয়ে ভেঙে যাওয়া—কোনও কিছুই দু’জনের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারেনি। একাধিক সাক্ষাৎকার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ‘দ্য দার্জিলিং লিমিটেড’ নামে একটি সিনেমা দেখার সময় রতনকে মনে পড়ে ক্যারোলিনের। পেরিয়েছে বহু সময়। রতন টাটা ততদিনে ভারত তথা বিশ্বে এক উল্লেখযোগ্য নাম। আর নিজের মতো করে নিজের দেশে সংসার পেতেছেন ক্যারোলিনও। শেষমেশ সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ২০০৮ সালে ইমেল মারফত যোগাযোগ হয় তাঁদের। সেই সূত্রেই পরের দিকে ভারত সফরে এসেছিলেন ক্যারোলিন। এমনকী ২০১৭ সালে রতন টাটার জন্মদিন উদযাপনেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। একইভাবে আমেরিকা গেলে ক্যারোলিনের সঙ্গে দেখা করতেন রতন। বয়স, প্রেমের সম্পর্কের চাপানউতোর, দেশ, সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে থেকে যায় এক নিখাদ বন্ধুত্ব।
সম্পর্কিত সংবাদ