যাত্রাতেও বার বার উঠে এসেছে রবীন্দ্র সাহিত্য ও তাঁর সঙ্গীতের নানা উপস্থাপনা। দেখা গিয়েছে, আবহ সঙ্গীত হিসেবে একাধিক রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর টুকরো টুকরো ভাবে ব্যবহার করতে। যাত্রার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে নট্ট কোম্পানি প্রথম আসরস্থ করে ‘প্রতিশোধ’ নামে একটি যাত্রাপালা। সেই পালাটি কবিগুরুর ‘মস্তক বিক্রয়’ কবিতার ছায়া অবলম্বনে রচনা করেছিলেন ব্রজেন্দ্রকুমার দে। সেই পালার নির্দেশক ছিলেন অমিয় বসু। ১৩৬১ সনে পালাটি পরবর্তী সময়ে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ভূমিকায় ব্রজেন্দ্রবাবু লিখেছেন—রবীন্দ্রনাথের ‘মস্তক বিক্রয়’ কবিতা ছাত্রাবস্থা থেকে আমার মনে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ‘প্রতিশোধ’ নাটক তারই পরিণতি। অসংখ্য দর্শকের প্রশংসাধন্য এই ধরনের কবিতা আধারিত নাটক আর কখনও অভিনীত হয়নি। গৌরাঙ্গপ্রসাদ ঘোষ তাঁর ‘যাত্রা শিল্পের ইতিহাস’ বইতে লিখেছেন—‘সেবার চূড়ান্ত খ্যাতি পেয়ে ছিল এই পালা। সংলাপে এবং উপস্থাপনায় আলাদা একটা মেজাজও তৈরি হয়েছিল।’ ওই বই থেকে আরও জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পূজারিণী’ কবিতার ভাব অবলম্বনে ‘শেষ আরতি’ নামেও একটি পালা রচিত হয়েছিল। একটা সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ যাত্রার আসরে নামানো হয়েছিল। জোড়াবাগান থানার সামনে ছিল ‘সান্ধ্য নাট্য সঙ্ঘ’। তাঁরাই কবির এই নাটককে যাত্রার মতো করে লিখে আসরে এনেছিলেন। হিমাংশু দাস ছিলেন এই পালার সম্পাদনা ও নির্দেশনার দায়িত্বে। রঘুবীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শান্তিগোপাল। রবি ঠাকুরের ‘সামান্য ক্ষতি’ অবলম্বনে রচিত ‘রাণী করুণাময়ী’ আসরস্থ করেছিল একটি যাত্রা সংস্থা। পালার নির্দেশক ছিলেন অমিয় বসু। নাট্য ভারতীর কর্ণধার কিষাণ দাশগুপ্ত রবীন্দ্র কাহিনীর পালারূপ আসরস্থ করেছিলেন। পালারূপ দিয়েছিলেন মন্মথ রায়। নির্দেশক ছিলেন অভিনেতা পঞ্চু সেন। যাত্রাপালায় চরিত্রের মুখ দিয়ে প্রথম রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি করান শম্ভু বাগ, তাঁর ‘ঘুম ভাঙার গান’ পালায়। চিৎপুরের অপর এক যাত্রা সংস্থাও আসরস্থ করেছিল ‘কাবুলিওয়ালা’। সুজিত পাঠক তাতে রূপদান করেছিলেন।



