নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চীন, রাশিয়া, ইরান। আমেরিকার তিন প্রতিপক্ষ একসঙ্গে দিল্লিতে। আগামী কাল ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে শুধু যে তিনজন থাকবেন তা নয়, প্রত্যেকের সঙ্গে আজ থেকেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন। আজই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
আগামী কাল দিল্লিতে পা রাখবেন জি জিনপিং। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম চীনের প্রেসিডেন্ট ফের ভারতে আসছেন। অন্যদিকে আজই পৌঁছবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান। বিকেলে হবে মোদি ও পেজেসকিয়ানের বৈঠক। ইরান ব্রিকসের অঙ্গ নয়। কিন্তু ভারত এবার ১১ জন আমন্ত্রিত দেশের রাষ্ট্রনায়ককে ব্রিকসের সম্মেলনের মঞ্চে আহ্বান করেছিল। একদিকে যেমন ইরান সেই তালিকায়, আবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও থাকছে। অর্থাৎ আমেরিকার বিরুদ্ধ শিবিরের দুই প্রধান রাষ্ট্র চীন ও রাশিয়া যেখানে ব্রিকসের অন্যতম প্রধান পুরোহিত, সেখানে আমেরিকার আর এক শত্রু ইরানও হাজির হচ্ছে। আবার আমেরিকা শিবিরের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি সংযুক্ত আরব আমিশাহিও উপস্থিত। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এবার ব্রিকস সম্মেলনের ক্ষমতার ভারসাম্য অভিনব। গোটা বিশ্বের চোখ থাকছে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে। আমেরিকাও তীক্ষ্ণভাবে নজরে রাখছে ডলার নিয়ে ব্রিকস এবার কী সিদ্ধান্ত নেয়। যৌথ ঘোষণাপত্রের দিশা কোনদিকে ধাবিত হয়। এদিকে, সামিট ঘিরে দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশ মুড়ে ফেলা হয়েছে শ’য়ে শ’য়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। চীন, রাশিয়া, ইরানের নিরাপত্তা এজেন্সি এবং স্পাইবাহিনিও রাস্তায় ঘুরছে। মৌর্য শেরাটন হোটেল, তাজ প্যালেস সহ ৩৫টি হোটেল ব্রিকসের দখলে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ যে দেশগুলিতে বাস করে, সেই ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চরাষ্ট্রের জোট ব্রিকস। সুতরাং তাদের রাষ্ট্রনায়কদের নিরাপত্তায় দিল্লি পুলিশের চোখে ঘুম না থাকারই কথা। অপারেশন ব্রিকস কবচ নামে সিকিউরিটি মিশন নেওয়া হয়েছে। অ্যান্টি ড্রোন অপারেশন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি থাকছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘স্ট্যান্ড বাই’ মোডে রাখা হয়েছে দিল্লি পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকে। দফায় দফায় টহলও দিচ্ছে পুলিশ। চলছে রুট মার্চও। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি, বাইক থামিয়ে চলছে নাকা তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সচিত্র পরিচয়পত্র। একপ্রকার যেন দুর্গে পরিণত করা হয়েছে দেশের রাজধানী শহরের বিস্তীর্ণ অংশকে।
সম্মেলন শুরুর আগে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার এহেন বজ্র আঁটুনিতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে দিল্লিবাসীর। নতুন দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধের ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে। নজিরবিহীন কড়াকড়ির সমালোচনায় সরব কংগ্রেস সাংসদ পি চিদম্বরম এবং তৃণমূল এমপি মহুয়া মৈত্র। তাঁদের কটাক্ষ, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন হওয়া উচিত আমেদাবাদে। এভাবে তিনদিন ধরে দিল্লির মানুষকে গৃহবন্দি করে রাখার কোনো অর্থ নেই। পাশাপাশি চিদম্বরমের অভিযোগ, ব্রিকস সম্মেলন থেকে আদতে ভারতের কিছুই পাওয়ার নেই।