নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগেই প্রকাশ করার চেষ্টা চলছে ৮,৪৭৭ শূন্যপদে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল। মঙ্গলবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সদর দপ্তর বিদ্যাসাগর ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা। যদিও, উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের চলমান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যে আপাতত স্তব্ধই থাকছে, তা কার্যত স্বীকার করেছেন তিনি। ওবিসি সংরক্ষণ আগের ১৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ শতাংশ হয়েছে। ৭ আগস্ট আদালতের এই নির্দেশের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।
ইতিমধ্যে প্রায় চার হাজার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীকে সুপারিশপত্র দিয়েছে এসএসসি। আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৯ হাজার মাধ্যমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীর মধ্যে ১৫ হাজার প্রার্থীর প্রাথমিক তথ্য যাচাই হয়েছে বলেও জানান চেয়ারম্যান। তবে, এঁদের কোন সময়ের সংরক্ষণের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে এসএসসি। ইতিমধ্যেই কাউন্সেলিং হয়ে যাওয়া প্রার্থীদের ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। তা সোমবারই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বাতিল করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ১৪ আগস্ট থেকে ১২টি বিষয়ের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীদের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হচ্ছে বলে জানান এক এসএসসি কর্তা। ফলে, সংরক্ষণ জটিলতায় আপাতত মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিশ বাঁও জলে। যদিও চেয়ারম্যান বলেন, সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করেই নিয়োগ হবে। তার জন্য যা করতে হয় আমরা করব।
এদিনই কমিশনে আরও চার সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রো চ্যান্সেলর স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের কোষাধ্যক্ষ স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানানন্দ, গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারের সেক্রেটারি এবং বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন মঠের গভর্নিং বডি সদস্য তথা অন্যতম ট্রাস্টি স্বামী তত্ত্বসারানন্দ এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কলকাতার স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের অধ্যাপক রম্যা তারাকাড বেঙ্কটেশ্বরণ। স্বামীজিরা এদিন সাংবাদিক বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ বলেন, নিয়োগের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।