সংবাদদাতা, বোলপুর: ত্রয়োদশীর পুণ্য তিথিতে ৫১কুমারীর আরাধনায় মাতল বীরভূমের সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। এই ঐতিহ্যবাহী পুজো এবছর ৫১তম বর্ষে পদার্পণ করল। শনিবার সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমান দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। পুজো উপলক্ষ্যে প্রায় ৬ হাজার ভক্তের জন্য ভোগের ব্যবস্থা করেন উদ্যোক্তারা।
কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের কাপাসটিকুরি গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য প্রয়াত বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায় এই পুজোর সূচনা করেন। বুদ্ধদেববাবু লালবাবা নামে পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে, কঙ্কালী মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েই দুর্গাপুজোর পরের ত্রয়োদশীতে তিনি কুমারী পুজো শুরু করেন। সেই থেকে প্রতি বছর এই রীতি চলে আসছে। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও পুজোর আয়োজনে শামিল হন।
এদিন মন্ত্রোচ্চারণ ও হোমযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পুজো সম্পন্ন হয়। কঙ্কালীতলার পঞ্চবটি বটগাছের নীচে ৫-৯ বছর বয়সি ৫১ জন কুমারীকে শাড়ি, অলংকার ও ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেবীরূপে পুজো করা হয়। সতীর ৫১টি পীঠের প্রতীক হিসাবে তাদের আরাধনা করা হয়। পুজো শেষে কুমারীদের হাতে উপহার, চকোলেট ও মিষ্টি তুলে দেন ভক্তরা। তাঁদের পুজো দিতে ও আশীর্বাদ নিতে সকাল থেকেই ভিড় জমায় বহু মানুষ। ঢাকের বাদ্য ও জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর। বহু পর্যটকও কুমারী পুজো দেখতে ভিড় জমান।
এই পুজো ঘিরে বহু পরিবারের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। নিজের মেয়েকে কুমারী রূপে সাজিয়ে পুজো দিতে পেরে খুশি মায়েরা। বোলপুরের বাসিন্দা মাম্পি মণ্ডল বলেন, মেয়ের জন্মের পর থেকেই ইচ্ছে ছিল, কঙ্কালীতলায় ওকে কুমারীরূপে সাজাব। সেই স্বপ্ন পূরণ হল, খুব আনন্দ হচ্ছে। একইভাবে সোমা দোলুইও জানান, পরিবারের সঙ্গে মেয়েকে কুমারীর আসনে দেখতে পাওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল। প্রয়াত লালবাবার ছেলে কাঞ্চিশ্বর চট্টোপাধ্যায় বলেন, দেবীর ইচ্ছাতেই বাবা এই পুজো শুরু করেছিলেন। সেই পুজো আজও চালিয়ে আসতে পেরে ভাল লাগছে। এই পুজোর সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে।



