স্পেন-১ : আর্জেন্তিনা-০
(ফেরান তোরেস)
স্পেন-১ : আর্জেন্তিনা-০
(ফেরান তোরেস)
শিবাজী চক্রবর্তী ও সঞ্জয় সরকার: আকাশের রং নীল। লামিনে ইয়ামাল সেদিকেই চেয়ে। ১৮ বছরের তরুণকে ঘিরে কুকুরেয়া, পোরো, রড্রি, পেড্রি এবং বাকিরা। বিড়বিড় করছেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্ররা। হয়তো ফুটবল দেবতাকে লা রোহার কৃতজ্ঞতা। ততক্ষণে ভালোবাসার অত্যাচারে তিনি বন্দি। স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ঢেকে দিচ্ছে ইয়ামালকে। মহাজাগতিক ফ্রেমে লেপ্টে স্পর্ধা, আবেগ, আদর। পরাস্ত আর্জেন্তিনা। বিশ্বজয়ী স্পেন। ২০১০ সালে স্প্যানিশ ফুটবলের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। ফের ২০২৬। স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়। লা রোহার দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে নায়ক কে? ফুয়েন্তে ব্রিগেডে সবাই সেরা। তিকি-তাকার মায়াজালে অস্তমিত নীল-সাদা। কাঁদছেন আরেকজনও। লিও মেসি। বিদায়বেলায় চোখের কোন চিকচিকে। তাঁকে ঘিরেই ডে পল, মার্তিনেজ, রোমেরো, নিকো গঞ্জালেজরা। হে বন্ধু বিদায়। দেড় দশক আগে বাথটাবে মেসির কোলে ইয়ামালের ছবি ইতিমধ্যেই আর্কাইভে সংরক্ষিত। সেই ইয়ামালই উলটে দিলেন পাশার দান। স্প্যানিশ তরুণ রইলেন। সঙ্গে রড্রি, ওলমো, রুইজদের সংগ্রাম। ফাইনালের ফল ১-০। তবে স্রেফ সাদা চোখে এই ম্যাচকে বিশ্লেষণ করা বৃথা। দেশপ্রেম, আবেগ, হাহাকার, লড়াইয়ের ওঠানামা। স্ট্র্যাটেজির ঝনঝনানি।।
কিক-অফের আগে মহামূল্যবান বাক্সে মাঠে আনা হল বিশ্বকাপ। আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, মারিও কেম্পেসের হাত ঘুরে তা পৌঁছল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্সে। প্রথমার্ধে স্পেনেরই দাপট। সেমি-ফাইনালে ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধে ফ্রান্সকে বশ মানিয়েছিলেন ফুয়েন্তে। ৪-১-২-৩ ফর্মেশন এদিনও সচল। আর্জেন্তিনা হাই-প্রেস করবে জানাই ছিল। প্রয়োজনে টাফ ফুটবলেও না নেই স্কালোনির। যে করেই হোক যুদ্ধ জেতার ফর্মুলা। প্রথম দলে তিনটি পরিবর্তনও করেছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ। মন্টিয়েল, ডে পল ও নিকো গঞ্জালেজকে শুরু থেকেই খেলালেন স্কালোনি। অন্যদিকে, ফুয়েন্তে উইনিং কম্বিনেশন বদলাননি। ইয়ামালরা শুরুতে মেপে নিলেন প্রতিপক্ষকে। তারপর পাসিং ফুটবলের বুনোটে মাঝমাঠ দখল শুরু। প্রথম ছোবল মেরেছিল স্পেনই। ৪ মিনিটে ওলমোর সঙ্গে ওয়াল খেলে গোলমুখ খুলে ফেলেছিলেন ইয়ামাল। এক্ষেত্রে নিশ্চিত বিপদ বাঁচান মার্তিনেজ। আর্জেন্তিনার পালটা আক্রমণের চেষ্টায় জল ঢাললেন ওলমোরা। মেসির জন্য কড়া মার্কিং। সঙ্গে বিপক্ষ বল পেলে দ্রুত ছিনিয়ে নেওয়ার স্ট্র্যাটেজি সফল। মাঝমাঠে রড্রি, ওলমো, ফাবিয়ান রুইজের ত্রিভুজ যেন বারমুডা ট্র্যাঙ্গল। ক্রমশ চাপে মেসিদের মাঝমাঠ। বিরতির আগে রুইজের পাস ধরে ওয়ারজাবালের ড্রপ শট মার্তিনেজের হাতে জমা পড়ে। প্রথমার্ধে ৬৪ শতাংশ বলের দখল রেখেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ স্পেন।
গোল আসছে না কিছুতেই। দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ারজাবাল ও রুইজকে তুলে যথাক্রমে ফেরান তোরেস ও পেড্রিকে নামালেন ফুয়েন্তে। ৬৭ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে তোরেসের হেড জমা পড়ে মার্তিনেজের গ্লাভসে। গতি বাড়তে নিকো উইলিয়ামসে নামিয়ে দিয়েছিলেন ফুয়েন্তে। একের পর এক কর্নারে চাপ বাড়ল। তবে তা থেকে ফসল তুলতে ব্যর্থ লা রোহা। লাপোর্তের হেড, ইয়ামালের ফ্রি-কিকও রুখে দিলেন মার্তিনেজ। এরইমধ্যে দ্বিতীয় হলুৱদ কার্ড দেখায় মার্চিং অর্ডার দেওয়া হয় এনজো ফার্নান্ডজেকে। অতিরিক্ত সময়েও নিকোর হেড শরীর ছুড়ে সেভ করলেন সেই মার্তিনেজ। আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে স্পেন তখন দুর্বার। বহু প্রতীক্ষিত গোল এল অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে। নিকো উইলিয়ামস হেডে বল নামিয়ে দিলে টপ নেটে ফিনিশ করেন ফেরান তোরেস (১-০)। যুব বিশ্বকাপে ভারতে খেলে যাওয়া তোরেসই এখন স্পেনের সোনার ছেলে।