নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বকেয়া বেতন ও পুজোর বোনাস নিয়ে জট কাটাতে পুর প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফের স্বাভাবিক হল গঙ্গায় লঞ্চ পরিষেবা। ফলে পুজোর মুখে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াত নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটল।
এদিন সকালে হাওড়ায় নিজের অফিসে সমিতির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। কর্মীদের পাওনা ও দাবিদাওয়া মেটানোর বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি পুজোর সময় লঞ্চ পরিষেবা চালু রাখার আবেদন জানান মন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস ও অনুরোধের পরেই কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কর্মীরা। হাওড়া স্টেশন ফেরিঘাটের কর্মী নান্টু মাঝি বলেন, ‘বকেয়া দু’মাসের বেতনের মধ্যে এক মাসের টাকা পুজোর আগেই ঢুকবে বলে কথা দিয়েছেন মন্ত্রী। পুজোর পর বাকিটা মিলবে বলে আশ্বাস তাঁর। মন্ত্রীর কথাকে সম্মান জানিয়েই আমরা কর্মবিরতি তুলে নিচ্ছি।’
এদিন দুপুর ২টো নাগাদ লঞ্চ পরিষেবা স্বাভাবিক হতেই নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি শহরতলির বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। বিকালের পর সেই ভিড় আরও বাড়ে। বুধবার দুপুর থেকে পুজোর বোনাস না পাওয়ার অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা। এর জেরে হাওড়া-কলকাতা সহ ১৪টি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চতুর্থীর দিন পুজো দেখতে যাওয়া বহু মানুষকে একারণে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। হাওড়া-চাঁদপাল, রামকৃষ্ণপুর-চাঁদপাল ছাড়াও হাওড়া থেকে আর্মেনিয়াম, আহিরিটোলা, শোভাবাজার ও বাগবাজার রুটে পরিষেবা বন্ধ ছিল। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল নাজিরগঞ্জ-মেটিয়াবুরুজ, গাদিয়াড়া-গেঁওখালি, নূরপুর ও বাউড়িয়া রুটে।



