Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিকেয় কর্মসংস্কৃতি পরিষেবায় তিতিবিরক্ত পানিহাটির বাসিন্দারা, বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পরিকল্পনা

কে কখন অফিসে ঢুকছেন, কখন বের হচ্ছেন– তার হিসেব নেই কারও কাছে। এমনকী দপ্তরের প্রধানকেও তোয়াক্কা করছেন না কর্মীরা!

শিকেয় কর্মসংস্কৃতি  পরিষেবায় তিতিবিরক্ত পানিহাটির বাসিন্দারা, বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর পরিকল্পনা
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কে কখন অফিসে ঢুকছেন, কখন বের হচ্ছেন– তার হিসেব নেই কারও কাছে। এমনকী দপ্তরের প্রধানকেও তোয়াক্কা করছেন না কর্মীরা! পানিহাটি পুরসভার এমন কর্মসংস্কৃতিতে তিতিবিরক্ত পুরসভার আধিকারিকরা। শহরবাসীও বিভিন্ন পরিষেবা পেতে পুরসভায় এসে নিত্যদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পুরসভায় বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে এই ব্যবস্থা চালু করতে খরচ কত হতে পারে, কীভাবে তা রূপায়ণ হবে তা জানতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কিন্তু বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করলেও কর্তৃপক্ষ কঠোর না হলে এই কর্মসংস্কৃতির আদৌ বদল হবে কি না, তা নিয়ে শহরজুড়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

Advertisement

পানিহাটি পুরসভায় স্থায়ী কর্মী প্রায় ২০০ জন। আর অস্থায়ী কর্মী প্রায় ১৩০০ জন। এই অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে প্রশ্নের কোনও শেষ নেই। পুরসভার প্রভাবশালী কর্মীদের নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের পাইকারি হারে গত কয়েক বছরে পুরসভায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এদের অনেকে পুরসভায় কাজ না করেও মাস গেলে মাইনে তোলেন বলে অভিযোগ। অনেকে পুরসভায় এলেও ক্লাবের মতো ইচ্ছা মতো ঢোকেন ও বের হন।

সম্প্রতি পুরসভার অর্থদপ্তরের আধিকারিকরা এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আধিকারিকরা সকাল সাড়ে ১০টায় ঢুকলেও কর্মীরা আসছেন তারও এক-দু’ঘণ্টা পর। কেউ আবার দুপুরের পর কাউকে কিছু না বলে চলে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দিনের পর দিন পুরসভায় না এসেও যেসব কর্মী মাইনে পাচ্ছেন, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, সে প্রশ্নও ওঠে। শুধু তাই নয়, আগরপাড়ার বটতলা এলাকায় পুরসভার একটি পৃথক অফিস রয়েছে। সেখানে ট্যাক্স জমা সহ নানান দৈনন্দিন কাজ হওয়ার কথা। সেই অফিসে সিংহভাগ সময় প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হয় আগরপাড়াবাসীকে। অভিযোগ, কর্মীদের হাজিরা ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা দেখা হয় না। তাই ইচ্ছা মতো আসা-যাওয়া করেন কর্মীরা।

এই বিষয়ে মতামতের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে ফোন করার পাশাপাশি মেসেজ করা হলেও তিনি জবাব দেননি। পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের বেশিরভাগ ওয়ার্ডের সাফাই ও স্বাস্থ্যবিভাগের সঙ্গে যুক্ত। ফলে অনেককেই পুরসভায় আসতে হয় না। আপাতত পুরসভায় বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ