প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদ, ভগৎ সিং, বাবাসাহেব আম্বেদকর, লতা মঙ্গেশকর। বলিউড অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়—কে নেই সেই তালিকায়! এক জায়গাতেই দেখা হবে সবার সঙ্গে। নেপথ্যে চণ্ডীগড়ের এক স্কুল শিক্ষক। চক দিয়েই যেন আস্ত এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। চকের গায়ে আঁকিবুকি কেটে ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক অবয়ব। নাম বলরাজ সিং। চণ্ডীগড়ের এক স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক। স্কুল আর পড়ুয়াদের নিয়েই রোজকার জীবন। এরই মাঝে একদিন এক মজার ঘটনা ঘটে। ক্লাসের ফাঁকে টিচার্স রুমে বসে গল্প করছিলেন বলরাজ। সামনের টেবিলে একটি চক পড়েছিল। গল্প করতে করতেই চকটি তুলে সেটির গায়ে পেন দিয়ে দাগ কাটছিলেন বলরাজ। কিছুটা অন্যমনস্ক ভাবেই। কিছুক্ষণ পর চকের গায়ে একটা অবয়ব গড়ে ওঠে। বিষয়টি নজরে পড়ে পাশে বসে থাকা অন্য শিক্ষকদেরও। চক দিয়ে এভাবে মূর্তি তৈরি স্কুলে সকলের নজর কাড়ে। সেই শুরু। চকের গায়ে নিপুণভাবে খোদাই করতে পেনের বদলে সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ব্যবহার শুরু করেন বলরাজ। চোখ, মুখ, চুল স্পষ্ট করার জন্য শুরু হয় রং-তুলির ব্যবহার। আর এভাবেই হাতের মুন্সিয়ানায় ফুটে ওঠে স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতাদের অবয়ব। এমনকী চকের গায়ে রঙের টানে ফুটে ওঠে বাহারি ফুলদানিও। শুরুর দিকে প্রচুর ভুল-ত্রুটি হতো। বলরাজের কথায়, এই ভুলগুলোই তাঁকে আরও পরিণত করে তুলেছে। অবসরে যে কাজের জন্ম হয়েছিল, আজ সেটাই বলরাজকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে পাঁচশোরও বেশি সৃষ্টি। শিল্পীর কথায়, ‘প্রতিদিন নতুন কিছু তৈরির চেষ্টায় থাকি। এত ছোট জিনিসের উপর এভাবে চোখ, নাক, মুখ তৈরি করতে অনেকটা সময় লেগে যায়। অনেক সময় চক ভেঙেও যায়। সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি না চরিত্রগুলি। আবার নতুন করে শুরু করি। আর এই ভাঙা-গড়ার সৃষ্টিসুখেই ডুবে থাকতে ভালোবাসি।’



