Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মহিলা সংশোধনী বিল: কৌশল ঠিক করতে আজ বৈঠকে কংগ্রেস, রবিবার বিরোধী জোট

লোকসভা-বিধানসভায় শীঘ্রই ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্বের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ আইনের সংশোধনী বিলকে কি সমর্থন করবে বিরোধীরা?

মহিলা সংশোধনী বিল: কৌশল ঠিক করতে আজ বৈঠকে কংগ্রেস, রবিবার বিরোধী জোট
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভা-বিধানসভায় শীঘ্রই ৩৩ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্বের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ আইনের সংশোধনী বিলকে কি সমর্থন করবে বিরোধীরা? কী হবে অবস্থান? তা ঠিক করতে আগামী রবিবার বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে। তার আগে আজ শুক্রবার কংগ্রেস ডেকেছে 

Advertisement

দলের ‘ওয়ার্কিং কমিটি’র বৈঠক। সেখানে আগে কংগ্রেস নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নেবে। তারপর তা নিয়ে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে এখনো ভোট বাকি। তা সত্ত্বেও তৃণমূল এবং ডিএমকের মতো অবিজেপি দুই দাপুটে দলের প্রতিনিধিও যাতে বিরোধীদের বৈঠকে হাজির থাকেন, তার চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। 
আগামী ১৬-১৮ এপ্রিল, তিনদিন সংসদের অধিবেশন ডাকছে মোদি সরকার। মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে তা এখনই কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। একইসঙ্গে ডিলিমিটেশন কমিশন আইনও হবে সংশোধন। যার জেরে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে হবে ৮১৬। তার মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ২৭২টি আসন। তফসিলি জাতি/উপজাতির যে আসন রয়েছে, তার মধ্যেও এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত হবে মহিলাদের জন্য। 
বর্তমানে সেন্সাস বা জনগণনা শুরু হয়ে গেলেও চমক দিতে ২০১১ সালের জনগণনাকেই ভিত্তি করেই এই আসন বাড়াতে চান মোদি। সেই কারণেই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে। মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালে যখন সংসদে সর্বসম্মতভাবে ১২৮ তম সংবিধান সংশোধন বিল পাশ হয়েছিল, তখন বিরোধীদেরই দাবি ছিল, এখনই কার্যকর হোক আইন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, আইন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের সেন্সাসের পর। কিন্তু এখন আচমকাই পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ভোটের আগে চমক দিতে চান মোদি। 
ডিলিমিটেশন বা এলাকা পুনর্বিন্যাস আইনে সংশোধনের ফলে স্রেফ লোকসভা নয়। পশ্চিবঙ্গ সহ সব রাজ্যেরও বিধানসভার আসন বেড়ে যাবে ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলা বিধানসভায় আসন হবে ৪৪১। কিন্তু দুই আইন সংশোধন করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তা আবার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ করা যাবে না। হতে হবে ‘স্পেশাল মেজরিটি।’ অর্থাৎ লোকসভার মোট আসন সংখ্যার অর্ধেক। এবং সেইদিন সভায় উপস্থিত সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ। একইভাবে রাজ্যসভায়। 
অঙ্কের হিসাব কষলে লোকসভায় প্রয়োজন ৩৬২ ভোট। রাজ্যসভায় ১৬৪। সরকারের কাছে এই সংখ্যা নেই। সেই কারণেই সব দলের কাছে কার্যত করজোড়ে আহ্বান জানিয়েছে সরকার। কিন্তু মোদির এই দ্বিচারিতা আর চমক কি সমর্থন দেবে বিরোধীরা? সেটা নিয়েই হবে বিরোধীদের অবস্থান নির্ধারণ বৈঠক। যদিও বিষয়টি এমনই যে, সমর্থন না দিলেই বিজেপি প্রচার করবে বিরোধীরা মহিলা বিরোধী। ফলে মোদির চালে কিছুটা চাপেই পড়েছে বিরোধীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ