


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবার মহিলা যাত্রীদের উদ্যোগে হাবড়া লোকালে পালিত হল রবীন্দ্রজয়ন্তী। গন্তব্যে যাওয়ার পথে নাচ, গান বা আবৃত্তির মাধ্যমে কবিগুরুকে স্মরণ করলেন তাঁরা।
২৫ বৈশাখে বন্ধ ছিল সরকারি অফিস। তাই, মঙ্গলবার ৮ টা ৫৫-এর হাবড়া লোকালকে বেছে নেন নিত্যযাত্রীরা। মঙ্গলবার ট্রেন ছাড়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হাজির হন সায়নী, পূজা, তপতিরা। তার আগেই অঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্নেহা বিশ্বাস, স্নিগ্ধা মল্লিকদের মতো যাত্রীরা কিনে আনেন সাজানোর নানা সামগ্রী। ট্রেনের একেবারে সামনে টাঙানো হয় কবিগুরুর ছবি সমেত ব্যানার। ট্রেন ছাড়ার আগে প্ল্যাটফর্মের উপরই নাচ, গানে প্রাথমিক পর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়। ট্রেন ছাড়ার একটু আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ছবি হাতে নিয়ে সুসজ্জিত কামরায় উঠে পড়েন মহিলারা। ট্রেন ছাড়ার আগে চালক এসে কবিগুরুর ছবিতে মাল্যদান করেন। এরপরই শুরু হয় রবীন্দ্রজয়ন্তীর নানা অনুষ্ঠান।
মহিলা যাত্রীদের পরনে ছিল লাল, গোলাপি পাড়ের সাদা শাড়ি। মাথায় জুঁইফুলের মালা। কবির সৃষ্টি দিয়েই কবিকে প্রণাম জানান নিত্যযাত্রীরা। উদ্যোক্তাদের অন্যতম সায়নী মুখোপাধ্যায় বলেন, নাচ, গান, কবিতায় কবিপ্রণাম জানিয়েছি আমরা। খুব আনন্দে কেটেছে দিনটা। নিত্যযাত্রী অঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ১০ বছর ধরে হাবড়া লোকালের মহিলা কামরাকে সাজিয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করে আসছি আমরা। এবারও সকলে মিলে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন স্কুলের শিক্ষিকা, কেউ উকিল, কেউ বা শিক্ষাকর্মী। কেউ আবার সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। প্রত্যেকেই রোজ সকাল ৮ টা ৫৫ মিনিটের হাবড়া লোকালে কর্মস্থলে যান। প্রতিদিনের যাত্রা থেকে পরিচয় গভীর হয়। সেই সূত্রেই বছর দশেক আগে মহিলা কামরায় ২৫শে বৈশাখে কবিগুরু স্মরণের উদ্যোগ নেন মহিলা নিত্যযাত্রীরা। সেই ধারা অব্যাহত থাকল এই বছরেও।-নিজস্ব চিত্র