Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় বধূকে খুন, স্বামী সহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় পিংকি কর্মকারকে খুনের দায়ে তারক কর্মকারসহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। বিস্তারিত পড়ুন।

কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় বধূকে খুন, স্বামী সহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে গলা টিপে খুন করার অপরাধে তারক কর্মকার নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। এই ঘটনায় যুক্ত থাকায় তারকের ভাই সমীর কর্মকার, বাবা জয়দেব কর্মকার এবং মা সাবিত্রী কর্মকারকেও যাবজ্জীবনের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার বনগাঁ ফার্স্ট ট্র্যাক ২ আদালতের বিচারক মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার এই নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী শ্যামল বিশ্বাস বলেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় ওই বধূকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, তা খুবই জঘন্য অপরাধ। বিচারক এদিন স্বামী সহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০১৫ সাল নাগাদ নদীয়ার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা পিঙ্কি কর্মকারের সঙ্গে গোপালনগরের কামদেবপুরের বাসিন্দা তারক কর্মকারের বিয়ে হয়। পিঙ্কির বাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের উপর অত্যাচার করতেন স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওর। বিয়ের বছর দুই পর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পিঙ্কি। কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে কিছুদিন বাপের বাড়িতে ছিলেন পিঙ্কি। ২০১৭ সালে মে মাসে তিন মাসের সন্তান ও স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তারক। কিছুদিন পর ১৫ মে তারিখে পিঙ্কির কাকিমাশাশুড়ি ফোন করে বাপের বাড়িতে জানান, পিঙ্কি অসুস্থ হয়ে বনগাঁ হাসপাতালে ভরতি। পিঙ্কির বাপের বাড়ির লোকেরা ছুটে এসে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করা হয়েছে দাবি করে থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে জানা যায়, স্বামী, দেওর, শ্বশুর ‌ও শাশুড়ি মিলে পিঙ্কিকে মারধর করে। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করে। বধূ অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে গলা টিপে খুন করে। এই ঘটনায় মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এতদিন তারা জামিনে ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর হেপাজতে নেওয়া হয়। বুধবার আদালত সাজা ঘোষণা করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ