Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬

ডিজিটাল প্রচারে ক্রমশ কোণঠাসা দল, অমিত মালব্যকে সরাল বিজেপি, গুরুদায়িত্ব স্মৃতি, বসুন্ধরা, রাম মাধবের

রাজনৈতিক যুদ্ধে যে সোশ্যাল মিডিয়া তথা আইটি সেলের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে, সেই শিক্ষা তাবৎ রাজনৈতিক দলকে দিয়েছে বিজেপি।

ডিজিটাল প্রচারে ক্রমশ কোণঠাসা দল, অমিত মালব্যকে সরাল বিজেপি, গুরুদায়িত্ব স্মৃতি, বসুন্ধরা, রাম মাধবের
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক যুদ্ধে যে সোশ্যাল মিডিয়া তথা আইটি সেলের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে, সেই শিক্ষা তাবৎ রাজনৈতিক দলকে দিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপির লাগাতার ডিজিটাল প্রচারের আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে বিরোধী দলগুলিও বাধ্য হয়ে নিজেদের আইটি সেল শক্তিশালী করেছে। কিন্তু যে বিজেপির সবথেকে বড় অস্ত্রই ছিল সোস্যাল মিডিয়ার যুদ্ধ এবং প্রচার, নিন্দুকে যাকে বলে প্রোপাগান্ডা, সেই আইটি সেল বিগত বছরগুলিতে যেন ক্রমেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছ। নিজেদের দৈন্য প্রকট হয়েছে সাম্প্রতিকতম জেনজি আন্দোলনের সময়। পাশাপাশি রামমন্দিরে প্রণামি চুরি এবং যন্তরমন্তরের জেন জি আন্দোলনের জোড়া অস্ত্রে ডিজিটাল যুদ্ধে বিজেপি এবং মোদি সরকার অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এই ব্যর্থতা যে সবথেকে বেশি করে উপলব্ধি করেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তার প্রমাণ পাওয়া গেল সোমবার। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নতুন করে মনোনীত হলে তিনি নিজের মতো করে সাংগঠনিক টিম তৈরি করেন। সব দলের ক্ষেত্রেই এই নীতি প্রযোজ্য। সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো। বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠনের সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, মুখপাত্রসহ একঝাঁক পদে নতুন করে মনোনীত করা হল পদাধিকারীদের। সেই তালিকায় সবথেকে বিস্ময়কর পদচ্যুতি অমিত মালব্যের। বিজেপি আইটি সেলের যিনি বহু বছর ধরেই আহ্বায়ক। তাঁকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সোস্যাল মিডিয়া প্রধান হয়েছেন দীপক মাহেস্কে। অন্যদিকে, বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অন্তর্ভুক্তি পীযূষ গোয়েলের। তিনি বর্তমানে সরকারের শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী। আমেরিকার সঙ্গে চলছে বাণিজ্য চুক্তির শেষ মুহূর্তের আলোচনা, দর কষাকষি এবং টানাপোড়েন। আর সেই সময়ই পীযূষ গোয়েল হয়েছেন নতুন কোষাধ্যক্ষ। বিজেপির নীতি হল এক ব্যক্তি দুই পদে থাকবেন না। তাহলে কি শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে পীযূষকে সরিয়ে দেওয়া হবে? মন্ত্রিসভার রদবদলে তিনটি মন্ত্রকে রদবদলের চর্চাই তুঙ্গে। অর্থ, বাণিজ্য ও রেল। এদিকে নতুন যে সাংগঠনিক টিম হয়েছে সেখানে তারুণ্যের ছাপ যেমন রয়েছে, তেমনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রত্যক্ষ নির্দেশিকার ছায়া। সুনীল বনসাল, বিনোদ তাওড়ে, তেজস্বী সুর্যা, বি এল সন্তোষ, রাম মাধব— সকলের বিশেষ পরিচয় তাঁরা স্বয়ংসেবক। আমেথি থেকে পরাজিত হওয়ার পর আবার দলে গুরুত্ব পেলেন স্মৃতি ইরানি। বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকেও উপেক্ষা করা গেল না। তাঁকে সহ সভাপতি রাখাই হয়েছে। 

Advertisement

বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সহ সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সম্পাদক পদে দলের বঙ্গ ব্রিগেডের দু’জনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্যতম সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছে মধুছন্দা করকে। অন্যতম কেন্দ্রীয় সম্পাদক হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। কিন্তু মনে করা হচ্ছে যে, একপ্রকার ‘প্রতীকী’ তালিকাভুক্ত করে বঙ্গ বিজেপিকে সন্তুষ্ট করে রাখা হল। এর আগে দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, অনুপম হাজরারা বিজেপির সর্বভারতীয় টিমের অংশ ছিলেন। অর্থাৎ, নীতিন নবীনের টিমে মধুছন্দা কর কিংবা মনোজ টিগ্গার অন্তর্ভুক্তি কোনো ‘এক্সক্লুসিভ’ বিষয় নয়। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে কেন্দ্রীয় টিমে নিয়ে নীতিন নবীন আদতে বুঝিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের সংগঠনই তাঁদের অন্যতম বড়ো ফোকাস। অন্যদিকে, দলেরই একাংশ মনে করছে, উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি বিজেপির ভারসাম্যের খেলা। যে তৃণমূলত্যাগী সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক এই মুহূর্তে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার এমপি হয়েছেন, তিনিও আলিপুরদুয়ার তথা উত্তরবঙ্গের নেতা। তাঁকে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করানোয় উত্তরবঙ্গে বিজেপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের অসন্তোষ সম্পর্কে দলীয় নেতৃত্ব ওয়াকিবহাল। এই পরিস্থিতিতে মনোজ টিগ্গাকে কেন্দ্রীয় টিমে স্থান দিয়ে আদতে বিজেপি বার্তা দিল, দলের তৃণমূলীকরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, সেটি ঠিক নয়। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধাণের সংগঠনে আদি বিজেপিদেরই গুরুত্ব থাকছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ