নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের পর এবার সেন্সাস জনগণনার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে স্কুলশিক্ষকদের। ছাড় নেই প্রধানশিক্ষকদেরও। তাঁদের দেওয়া হচ্ছে সুপারভাইজারের কাজ। তবে, বিএলও ডিউটির চেয়েও এক্ষেত্রে বেশি নাম এসেছে বলে দাবি শিক্ষকদের। আগস্টের দ্বিতীয় সামেটিভ মূল্যায়ন এবং সেপ্টেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষার আগে তাই উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। অভিভাবকদের কাছেও এ নিয়ে কথা শুনতে হচ্ছে শিক্ষক-প্রধান শিক্ষকদের।
এ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে, তাতে সমস্যাটা শিক্ষকদের ব্যবহার করা নিয়ে নয়। শহরের স্কুলগুলিতে যেখানে ছাত্র সংখ্যা বেশি, সেগুলিই বিশেষভাবে টার্গেট হচ্ছে। কারণ, ছাত্র সংখ্যা বেশি থাকায় সেগুলিতে শিক্ষকদের সংখ্যাও বেশি। তাই একলপ্তে প্রচুর শিক্ষককে নেওয়া সম্ভব বলে, সেগুলিতেই হাত পড়ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যাদবপুর এন কে পাল আদর্শ শিক্ষায়তনে প্রায় ১৬০০ পড়ুয়া। সেখান থেকে প্রায় ৩০ জন শিক্ষককে জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গড়িয়াহাটের কমলা চ্যাটার্জি স্কুল ফর গার্লসে ১২০০ ছাত্রী রয়েছে। সেখানে ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষিকার মধ্যে ৩২ জনের জনগণনার ডিউটি এসেছে। বিটি রোড গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলেও প্রচুর পড়ুয়া। তবে, প্রধান শিক্ষিকা সহ ২৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে ২৫ জনকেই জনগণনার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষক-প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, সিঙ্গল সাবজেক্ট টিচারদেরও ঢালাও ডিউটি দেওয়া হয়েছে। ফলে, সেগুলির পঠনপাঠন কার্যত বন্ধ। দ্বিতীয় সামেটিভ এবং তৃতীয় সামেটিভ পরীক্ষার ক্লাস তো শিকেয় উঠেছেই। দু’মাস বাদে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ুয়ারা আতঙ্কে। এক শিক্ষিকা বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকে অনেক নতুন বিষয় চালু হয়েছে। পরিবেশ বিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো বিষয় জীবনবিজ্ঞান বা ভূগোলের শিক্ষকরা নিয়ে থাকেন। আবার ডেটা সায়েন্স বা এআইয়ের মতো বিষয়ের ক্লাস নেন গণিত বা পদার্থবিদ্যার শিক্ষকরা। ফলে একজন শিক্ষককে নিয়ে নিলে একসঙ্গে একাধিক বিষয় পড়ানোর জন্যও কেউ থাকছেন না।’
বিটি রোড গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এভাবে চললে স্কুল বন্ধই রাখতে হবে। মিটিংয়ে অভিভাবকরা যা তা বলছেন। এসআইকে জানিয়েছি। তিনি কিছু জানতেন না। ডিআইকেও জানাব। পুরসভা থেকে চিঠি এসেছে। তাই পুর কমিশনারের সঙ্গেও যোগাযোগ করার কথা ভাবছি।’ পুরসভা অবশ্য বলছে, শিক্ষাদপ্তরের তথ্য নিয়েই শিক্ষকদের ডাকা হয়েছে। অবশ্য, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, তথ্য দেওয়া হয়েছে মানে এই নয় যে একটি স্কুল থেকেই সব শিক্ষককে নিতে বলা হয়েছে। এটা তো কমন সেন্স।