Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ দিনে ২৫ লক্ষাধিক, এবার ২৭ লক্ষের রেকর্ড ভাঙতে ছুটছে বইমেলা

‘আমি আর্জেন্তিনায়। কোথায় আছিস তুই?’ বন্ধুকে উদ্বেগ ভরা গলায় ফোন তরুণীর। বন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি চীনে আছি। এক্ষুনি আসছি’। বাস্তবে আকাশপথে ১৯ হাজার কিলোমিটার হলেও কলকাতা বইমেলায় আর্জেন্তিনা ও চীনের দূরত্ব মাত্র পঞ্চাশ ফুট।

১০ দিনে ২৫ লক্ষাধিক, এবার ২৭ লক্ষের রেকর্ড ভাঙতে ছুটছে বইমেলা
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘আমি আর্জেন্তিনায়। কোথায় আছিস তুই?’ বন্ধুকে উদ্বেগ ভরা গলায় ফোন তরুণীর। বন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি চীনে আছি। এক্ষুনি আসছি’। বাস্তবে আকাশপথে ১৯ হাজার কিলোমিটার হলেও কলকাতা বইমেলায় আর্জেন্তিনা ও চীনের দূরত্ব মাত্র পঞ্চাশ ফুট। কিন্তু এই অল্প দূরত্ব আসতে কতক্ষণ লাগে? বন্ধুর দেরি হচ্ছে দেখে তরুণীর তাই উদ্বেগ। তবে ছুটির দিনের সন্ধ্যা। বইমেলার শেষ শনিবার। তাই প্রাঙ্গণজুড়ে বইপ্রেমীদের প্লাবন। কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে ৫০ ফুট এগতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। ফলে দেরি হচ্ছে চীন থেকে আসতে।

Advertisement

যদিও এবার মেলায় ভিড় শুরু প্রথম দিন থেকেই। উদ্বোধনের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত বইমেলায় ভিড় ছাড়াল ২৫ লক্ষ। আজ, রবিবার ধরলে বইমেলা এখনও তিনদিন বাকি। শেষ হচ্ছে ৩ ফেব্রুয়ারি। তাই গতবারের ২৭ লক্ষের রেকর্ড এবার তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই কারও।

বহু স্টলের সামনে বাসুকি নাগের মতো সুদীর্ঘ আঁকাবাঁকা লাইন। বই কিনতে স্টলের বাইরে মানুষের ক্লান্তিহীন অপেক্ষা। এমনও বহু মানুষ আছেন যাঁরা দেড়-দু’ঘণ্টার বেশি লাইন দিয়ে স্টলে ঢুকেছেন। তারপর স্টলের ভিতরেও হাঁসফাঁস অবস্থা। ভিড়, সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। পা ফেলার জায়গা নেই। তবুও পাঠকদের এমন ধৈর্য ও উৎসাহ দেখে আপ্লুত গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে। তিনি বলেন, ‘পাঠকরাই তো বইমেলার লক্ষ্মী। শুধু ভিড় নয়, আমি প্রত্যেকের হাতে বইয়ের ব্যাগও দেখছি। শুধু মেলা ঘুরছেন এমন নয়। বইও কিনছেন। বইয়ের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা অমর হয়ে থাকুক। কারণ বইয়ের চেয়ে ভালো বন্ধু আর কেউ নেই!’ ২২ জানুয়ারি বিকেল থেকে শুরু হয়েছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। ২৩ জানুয়ারি ছিল ছুটির দিন। সঙ্গে সরস্বতী পুজো। গিল্ডের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ওইদিন আড়াই লক্ষ মানুষ এসেছিলেন। একইভাবে ২৪ জানুয়ারি শনিবার এসেছিলেন সাড়ে ৩ লক্ষ। ২৫ জানুয়ারি রবিবার প্রায় ৪ লক্ষ এবং ২৬ জানুয়ারিও ৪ লক্ষ মানুষ হাজির হয়েছিলেন। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি ছিল কাজের দিন। তবুও ২৭ জানুয়ারি দেড় লক্ষ, ২৮ তারিখ ১ লক্ষ ৬০ হাজার, ২৯ তারিখ ১ লক্ষ ৭৫ হাজার এবং ৩০ জানুয়ারি ২ লক্ষ ২৫ হাজার বইপ্রেমী এসেছিলেন। ৩১ জানুয়ারি, শনিবার হাজির হয়েছিলেন ৪ লক্ষ মানুষ। সবমিলিয়ে এখনই ভিড় ছাড়িয়েছে ২৫ লক্ষ। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘গতবার ২৭ লক্ষ মানুষ এসেছিলেন। যা ভিড় দেখছি, এবার ৩০ লক্ষ ছাড়াবেই। তার চেয়ে বেশিও হতে পারে। পাঠকদের সবসময় স্বাগত। তাঁদের এই ভিড়ই আমাদের প্রাপ্তি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ