নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাবু দর্শকদের দেখে ভেংচি কাটে। তা দেখে সবার ভারি মজা। সেটি দেখে বাবুর উৎসাহ আরও বাড়ে। এরপর শুরু করে ভয়ানক লম্ফঝম্ফ। তা দেখে আরও আমোদ। বাচ্চারা খুশিতে প্রায় লুটোপুটি খায়। কলকাতা চিড়িয়াখানায় বাবুর মতো দেখতে বিশালাকার শিম্পাঞ্জির কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করেছে বনদপ্তর। বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জানিয়েছেন, কলকাতা চিড়িয়াখানা সারাবছর আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। সেই আকর্ষণ বজায় রেখে চিড়িয়াখানা আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হবে। আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে শিম্পাঞ্জির অবয়ব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কলা-পেঁপে ইত্যাদি ফল তো খায়ই বাবু, তবে খুব ভালোবাসে দই-চিঁড়ে খেতে। ডানপিটে এক শিম্পাঞ্জি শান্ত হয়ে বসে দই-চিঁড়ে খাচ্ছে! সেটাও কম মজার নয়। এর পাশাপাশি আরও কিছু চমকপ্রদ পরিকল্পনা রয়েছে বনদপ্তরের।
‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’-রায় গুণাকর ভারতচন্দ্রের পঙক্তিতি চিরকালীন। পঙক্তির মূল অর্থ, সন্তান যেন অন্ন অর্থাৎ ভাতের অভাবে না ভোগে। সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকে। প্রত্যেক বাবা-মা চান, তাঁর সন্তানকে পুষ্টিকর খাবার দিতে এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে তার ভবিষ্যতের পথ নিশ্চিত করে তুলতে। এই ভারতচন্দ্রের পঙক্তিই এবার অনুসরণ করে এগতে চাইছে এ রাজ্যের বনদপ্তর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে চিড়িয়াখানা এবং অরণ্যগুলি আছে, সেখানে পশু-পাখিদের কী খাবার দেওয়া হয় তা সরাসরি কলকাতার অরণ্যভবন থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই পরিকল্পনাই করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও।
কলকাতার চিড়িয়াখানা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন পশু-পাখিদের কীভাবে পরিচর্যা হয়, কী খাবার দেওয়া হয়, তা সঠিক পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে কি না বা কতটা সুষম খাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছে, তা সামগ্রিকভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে চলেছে বনদপ্তর। এর মূল উদ্দেশ্য, সুস্থ-সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে পশু-পাখিদের লালনপালন। বনমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসাব। যা ইন্টারনেট এবং বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি মনিটর করা হবে রাজ্যের বনদপ্তর থেকে। আমরা সেখান থেকেই দেখতে পাব পশু-পাখিরা ঠিকমতো প্রতিদিন খাবার পাচ্ছে কি না। এবং কত পরিমাণ খাবার পাচ্ছে এবং তাদের পরিচর্যা ইত্যাদি বিষয়। পশু-পাখিদের প্রতিদিন যে খাবার দেওয়া হয়, তা পরবর্তীকালে আমরা বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সরাসরি দেখানোর সুযোগও করে দেব।’
মন্ত্রীর এই ভাবনা থেকে মনে করা হচ্ছে, চিড়িয়াখানা এবং অন্যান্য অরণ্যে বসবাস করা বন্যপ্রাণীদের অভিভাবক যেহেতু বনদপ্তর। ফলে এবার অভিভাবকের সরাসরি অভিভাবকত্বে বন্যপ্রাণীরা যাতে ঠিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তা লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এছাড়া খাবার নিয়ে কোথাও কোনো গরমিল বা দুর্নীতি যাতে না হয় তাও পর্যবেক্ষণ করা হবে সরাসরি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনেকে বলছেন, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে,’ এই কথার সঙ্গে নিজেদের সামিল করতে চলেছে বনদপ্তর।
এছাড়াও দায়িত্ব পাওয়ার পর বনদপ্তরকে ঢেলে সাজার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিজেপি সরকারের বনমন্ত্রী। বক্সা টাইগার রিজার্ভে ২ অক্টোবর নতুন একটি বাঘ ছাড়তে চলেছে বনদপ্তর। এর পাশাপাশি গঙ্গায় ডলফিন আনারও পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি, রসিক বিলকে সাজিয়ে তোলা সহ একাধিক ভাবনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।