Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটমানি বন্ধ, দাম কমবে কি ফ্ল্যাটের? আশায় বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা

তৃণমূল জমানায় ভিত খোঁড়ার আগেই হাজির হয়ে যেতেন প্রভাবশালীরা। দাবি করতেন আগে তাঁর পাওনা, তারপর কাজ!

কাটমানি বন্ধ, দাম কমবে কি ফ্ল্যাটের? আশায় বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তৃণমূল জমানায় ভিত খোঁড়ার আগেই হাজির হয়ে যেতেন প্রভাবশালীরা। দাবি করতেন আগে তাঁর পাওনা, তারপর কাজ! কেউ দাবি করতেন একটি থ্রি বিএইচকে ফ্ল্যাটের। কেই আবার নগদ চাইতেন। বহুতলের কাগজপত্র তৈরিতেও দিতে হতো উপঢৌকন। তার পরিমাণও নেহাৎ কম ছিল না। চাহিদার শেষ এখানেও নয়। রড, বালি, ইট, সিমেন্ট ইমারত সামগ্রী নিতে হবে নেতার পছন্দের কারবারির থেকে। আক্ষরিক অর্থে যা কি না সিন্ডিকেট। বাজার দরের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হবে। সেখানে প্রভাবশালীর পকেটে আসত কাটমানি। সবমিলিয়ে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রমোটাররা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।  

Advertisement

রাজ্যে পালা বদলের পর আপতত সেই প্রথা বন্ধ। তাই ফ্ল্যাটের দাম কমার আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, শুধু ফ্ল্যাট নয়, জমি, বাড়ির দাম কমারও সম্ভবনা রয়েছে। তৃণমূলের আমলে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল দালালচক্র। তাদের বাদ দিয়ে জমি, বাড়ি কেনাবেচা দায় হয়ে উঠেছিল।
বর্ধমানের বাসিন্দা বাবুনি মজুমদার বলছিলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে কাটমানি আদায় করা প্রভাবশালী নেতাদের কাছে যেন হক অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রমোটাররা ক্রেতাদের উপর বাড়তি দাম চাপিয়ে নেতাদের টাকা দিতেন। পাড়ায় পাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র গড়ে উঠেছিল। আশাকরি, সেসব নতুন সরকারের আমলে অবলুপ্ত হবে। নেতাদের টাকা না দিতে হলে ফ্ল্যাটের দাম কমবে।’
শহরের আর এক বাসিন্দা শম্ভু দাস বলেন, ‘বর্ধমানের ফ্ল্যাটের দাম কলকাতাকে টক্কর দিচ্ছিল। সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা স্কোয়ার ফিট। এতটা দাম বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমির দামও বেড়েছিল। আগের জমানায় নেতারাই অনেকে জমির দালাল হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের এড়িয়ে জমি বিক্রি করা যেত না। দুই থেকে চার শতাংশ পর্যন্ত তাঁরা কমিশন নিতেন।’
কথা হচ্ছিল শহরের এক প্রমোটারের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, নেতাদের পাশাপাশি বহুতল তৈরির অনুমতি পেতেও প্রচুর টাকা খরচ হতো। তা না হলে টেবিলে দিনের পর দিন ফাইল পড়ে থাকত। টাকা দিলে তড়িঘড়ি কাজ হয়ে যেত। কাটমানি দিতে না হলে ফ্ল্যাটের দাম কমতেই পারে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, এধরণের ব্যবস্থা চালু থাকায় এক শ্রেণির প্রমোটাররাও ফায়দা তুলেছে। জলাশয় ভরাট করে অনেক জায়গায় আবাসন হয়েছে। 
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন। এই সরকার সাধারণ মানুষের। তাই তাঁদের কথা সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একটি ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন সবার থাকে। তৃণমূল নেতাদের জোরজুলুমের জন্য অনেকেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। কাটমানি প্রথা বন্ধ হবে। এটা আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি।’ তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘কারা প্রমোটারদের থেকে কাটমানি নিতেন, তা আমার জানা নেই। আমাদের দল কোনো দিনই অনৈতিক কাজ সমর্থন করেনি।’

সম্পর্কিত সংবাদ