Bartaman Logo
২৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আধার সংযোগ না থাকলে গ্যাস বন্ধ?

আধার সংযোগ না থাকলে জুলাই থেকে রান্নার গ্যাসের ভরতুকি বন্ধ হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ই-কেওয়াইসি অপরিহার্য। বিস্তারিত পড়ুন।

আধার সংযোগ না থাকলে গ্যাস বন্ধ?
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: আধার সংযোগের মাধ্যমে রান্নার গ্যাসের ভুয়ো বা ভূতুড়ে  গ্রাহক চিহ্নিত করাই লক্ষ্য কেন্দ্রের। সেই মতো যাঁদের এখনও রান্নার গ্যাসের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণ (ই-কেওয়াইসি) হয়নি, তাঁরা আগামী জুলাই মাস থেকে আর সিলিন্ডার পিছু ভরতুকি পাবেন না। উজ্জ্বলা এবং সাধারণ গ্রাহক—উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে চলেছে। সূত্রের খবর, এর পরবর্তী ধাপ হিসাবে ই-কেওয়াইসি ছাড়া সিলিন্ডার ডেলিভারিতেই রাশ টানতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। সেক্ষেত্রে আধার সংযোগ না থাকলে মিলবে না গ্যাস। 

Advertisement

কয়েক মাস আগে ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, আধার সংযুক্তিকরণের জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব সাধারণ গ্রাহক ‘পহল’ যোজনায় ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে এখনও ভরতুকি পাচ্ছেন, তাঁরা ই-কেওয়াইসি না করে থাকলে আর তা পাবেন না। এরপর গ্রাহক যেদিন আধার সংযুক্ত করবেন, তারপর থেকে ফের ভরতুকি মিলবে। এ ব্যাপারে গ্রাহকদের সচেতন করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে ডিস্ট্রিবিউটরদের। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ই-কেওয়াইসি না থাকলেও সিলিন্ডারের বুকিংয়ে আপাতত কোনো অসুবিধা নেই। ডেলিভারি পেতেও সমস্যা হবে না। তেল সংস্থার কর্তাদের একাংশ মনে করছে, অদূর ভবিষ্যতে এখানেই রাশ টানার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। তাঁদের বক্তব্য, ডিস্ট্রিবিউটর ভেদে ই-কেওয়াইসির হার আলাদা। তবে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। অনেক সময় দেখা যায়, মৃত গ্রাহকের নামে থাকা সংযোগে সিলিন্ডার ডেলিভারি নিচ্ছেন পরিবারের অন্য সদস্য। কোথাও আবার গ্রাহক নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাকেন না। তাঁর নামে থাকা সংযোগ ব্যবহার করেন অন্য কেউ। বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই, এমন গ্রাহকের নামেও সিলিন্ডার তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটররা। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যাঁর নামে সিলিন্ডার, তাঁকে দ্রুত ই-কেওয়াইসি বা সংযোগ অন্য কারও নামে ‘ট্রান্সফার’ করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু যেখানে ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন নামে সিলিন্ডার তুলে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে রাশ টানা ছাড়া উপায় নেই। 
তেল সংস্থার কর্তাদের একাংশের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি করানোর জন্য বলা হচ্ছে। উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের বৃহত্তম অংশই তা করিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে প্রবল অনীহা। প্রশ্ন হল, যাঁরা এতদিনেও ই-কেওয়াইসি করেননি, তাঁদের সবাই কি আদৌ নিয়মিত সিলিন্ডার নেন? নাকি সেখানে ভূতুড়ে গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি? এই মুহূর্তে কলকাতায় যে সিলিন্ডারের দর ৯৪২ টাকা, তার বাজারদর প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা হওয়া উচিত। কলকাতার গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকউন্টে প্রায় ১৯ টাকা ভরতুকি পৌঁছালেও পেট্রলিয়াম মন্ত্রক নিজেই বলছে, সরকার সিলিন্ডার পিছু ৬০০ টাকার বেশি ভরতুকি দিচ্ছে তারা। ফলে বাস্তবে অস্তিত্ব নেই, এমন গ্রাহকের জন্যও সরকারকে ভরতুকির টাকা গুণতে হচ্ছে। এই খরচ আটকাতেই ই-কেওয়াইসি ছাড়া সিলিন্ডার ডেলিভারি বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্র। যদিও এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ