নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনা। ফুলবাগানের এক শপিং মলে জরুরি মিটিং সেরে সবে বেরিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার ব্যবসায়ী আমিন আলি মণ্ডল। সেই সময় তাঁর পথ আটকে দাঁড়ান কয়েকজন। নিজেদের সিআইডি আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে তল্লাশির কথা বলেন তাঁরা। অভিযোগ, তারপর জোর করেই তাঁরা ব্যবসায়ীকে একটি কালো রঙের গাড়িতে তোলেন। ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের মারধর করা হয়। আমিন আলি মণ্ডল লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, গাড়িতে তোলার পর তাঁর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে এক কোটি টাকা চাওয়া হয়। এত টাকা নেই বলে জানালে তাঁর কাছে থাকা ৭০ হাজার নগদ ও সোনার চেন লুট করেন সিআইডি পরিচয় দেওয়া অভিযুক্তরা। এর মধ্যে তাঁদের কাছে খবর আসে, ব্যবসায়ীর পরিচিতরা পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তখন তাঁকে মধ্যমগ্রামের কাছে ধাক্কা মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কোনোরকমে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। শনিবার তিনি হাসপাতালে ভরতি হন। বিকালে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন ফুলবাগান থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ ফুলবাগানের ওই শপিং মলে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, ওই ব্যবসায়ীকে পথ আটকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। নম্বর দেখে গাড়িটি চিহ্নিত করে পুলিশ। তার ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তারও করেছে ফুলবাগান থানা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দু’জনের নাম মোহাম্মদ আলি মোল্লা ও শেখ আশরাফুল মোল্লা। তাঁদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই ব্যবসায়ীর কাছে তাঁরা কিছু টাকা পেতেন। ব্যবসায়ী তা দিচ্ছিলেন না। তাই তাঁকে অপহরণ করেন তাঁরা। তদন্তে পুলিশ আরও জেনেছে, বাদুড়িয়ায় ইমপোর্ট –এক্সপোর্টের ব্যবসা রয়েছে আমিন আলি মণ্ডলের। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণ, লুট, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানোসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছ। ঘটনার পিছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না বা আর কারা কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চলছে।



