Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে? নানা মহলে চলছে চর্চা

বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য ডিসেম্বর মাসে খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল আট লক্ষের বেশি নাম। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হল, তাতে আরো ৫০ হাজার নাম ডিলিট হয়।

‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে? নানা মহলে চলছে চর্চা
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য ডিসেম্বর মাসে খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল আট লক্ষের বেশি নাম। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হল, তাতে আরো ৫০ হাজার নাম ডিলিট হয়। শেষমেশ বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বাদ পড়ল দুই লক্ষের বেশি নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এভাবে তিন দফায় ১০ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে ৭৬ হাজারের মতো নতুন ভোটারের নামও উঠেছে। ফলে সব মিলিয়ে জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ লক্ষের সামান্য বেশি। বহু বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল নাম বাদ পড়েছে, আবার কোথাও তুলনামূলকভাবে কম।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। কারণ কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে যত নাম বাদ পড়েছে , সেটা গত নির্বাচনে তৃণমূল ওই কেন্দ্রে  যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল, তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। যেমন সোনারপুর দক্ষিণ। লোকসভা ভোটে এই আসন থেকে শাসকদল প্রায় ১০ হাজারের মতো লিড পেয়েছিল। অথচ এসআইআরে এখান থেকে বাদ পড়েছে ৪০ হাজারের বেশি নাম। ক্যানিং পশ্চিমে আগের বিধানসভা ভোটে ৩৫ হাজারের ব্যবধানে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী পরেশরাম দাস। এবার সেখানে বাদ পড়েছে ৩৭ হাজারের বেশি। একাধিক বিধানসভাতে এমন চিত্র ধরা পড়েছে। এই নাম বাদের জেরে জেলার মধ্যে এখন সব থেকে কম ভোটার মেটিয়াবুরুজে। সেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লক্ষের নীচে নেমে গিয়েছে।
উল্টোদিকে এমন অনেক বিধানসভাও আছে, যেখানে গতবারে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানকে টপকাতে পারেনি এস আই আরে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যা। যেমন বাসন্তী। এখানে বাদ পড়েছে ৩৫ হাজারের মতো ভোটার। অথচ ২০২১ সালের বিধানসভা কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে মার্জিন পেয়েছিল শাসকদল, তার ধারের কাছে নেই বাদের সংখ্যা।
এই নাম বাদের প্রভাব কতটা পড়তে পারে ভোটে? তাতে কার লাভ আর লোকসানই বা কার, সেইসব নিয়ে এখন পাড়ার দোকান, চায়ের ঠেকে আলোচনা চলছে। দেখা যাচ্ছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকার পরও এবার অনেকের নাম চূড়ান্ত লিস্টে ওঠেনি। আবার বাড়ির দুই সদস্যের নাম উঠলেও বাকিদের ওঠেনি। এগুলি নিয়েই উঠছে  প্রশ্ন। আবার মন্তব্য শোনা যাচ্ছে যে, অনেকেই অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলে নিয়েছিলেন। তাঁদের নাম কাটা গিয়ে ভালোই হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে কার লাভ হবে, সেসব নিয়েও দলগুলি কাটাছেঁড়া করছে। বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোতদার বলেন, নাম বাদ যাওয়ার জন্য ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ বাদের তালিকায় সব দলেরই কর্মী, সমর্থক আছে। আবার তৃণমূল নেতা তথা রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডল বলেন, মৃত বা অন্যত্র চলে গিয়েছে, এমন ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কারো আপত্তি নেই। কিন্তু অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ গিয়েছে। পরিবারের একজনের নাম আছে, বাকিদের বাদ পড়েছে। এরকম ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। এটা বিজেপির বিরুদ্ধেই যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ