


লখনউ: বিয়ের বয়স মাত্র দু’সপ্তাহ। তাতেই অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন স্ত্রী। কারণ, প্রেমিকের সঙ্গে মেলামেশায় অসুবিধা হচ্ছিল। তাই ‘পথের কাঁটা’ স্বামীকে সরাতে ভাড়া করলেন সুপারি কিলার। সঙ্গত দেন তাঁর প্রেমিক। তাদের নির্দেশে সুপারি কিলার খুন করে মহিলার স্বামীকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আওরিয়া জেলায়। বিয়ের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে এমন পরিণতি দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত মহিলা ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধরা পড়েছে সুপারি কিলারও।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চার বছর ধরে প্রেম রয়েছে প্রগতি যাদব এবং অনুরাগ যাদবের। তাঁদের এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি পরিবার। গত ৫ মার্চ দিলীপ যাদবের সঙ্গে প্রগতির বিয়ে দিয়ে দেন তাঁর বাবা-মা। এরপরই সমস্যার শুরু। বিয়ের পরও প্রেম টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন প্রগতি। অনুরাগকে জানান, দিলীপ বড়লোক। তাঁকে সরাতে পারলে তার টাকায় সারা জীবন সুখে কেটে যাবে। তবে এই কাজ করতে হবে সাবধানে। অগত্যা সুপারি কিলার ভাড়া করার সিদ্ধান্ত। সেজন্য অনুরাগকে এক লাখ টাকা দেন প্রগতি। সেই টাকা দিয়ে রামজি চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন অনুরাগ। ঠিক হয়, কাজ হাসিল হলে মোট দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
১৯ মার্চ কাজ সেরে কনৌজ থেকে ফিরছিলেন দিলীপ। পথে পাটনা ক্যানালের কাছে রাস্তার ধারের একটি হোটেলে তিনি দাঁড়ানো মাত্র মোটর সাইকেলে করে দু’জন আসেন। তাঁরা জানান, গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়েছে। দিলীপ যদি একটু দেখে দেন। এরপর তাঁকে মোটর সাইকেলে করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে গুলি করা হয়। গম খেতে দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পুলিস এসে দিলীপকে উদ্ধার করে বিধুনায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২১ মার্চ মৃত্যু হয় ২৫ বছরের দিলীপের। তাঁর ভাই শহর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে রামজিকে চিহ্নিত করে পুলিস। সেই সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার হয় অনুরাগ ও প্রগতি। তিনজনকেই জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।