


রোহতক: বাবাকে খুন করে জমি বিক্রি করতে হবে। সেই টাকা প্রেমিকের পদোন্নতির কাজে লাগবে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাচ্ছিল স্ত্রী। প্রেমিকের সঙ্গে অশ্লীল নাচের ভিডিও পাঠিয়ে স্বামীকে বিরক্ত করতেও ছাড়েনি ওই মহিলা। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ আত্মঘাতী হলেন স্বামী। হরিয়ানার রোহতকের দোভ গ্রামের এই ঘটনায় মৃতের নাম অজয় ওরফে মগন। মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট হিসেবে একটি ভিডিও করে যান তিনি। সেখানেই স্ত্রী দিব্যা ও তার প্রেমিক দীপকের অপকর্ম ফাঁস করেছেন অজয়। দু’জনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আর্জিও জানান তিনি। দিব্যার প্রেমিক পেশায় পুলিস অফিসার। অভিযোগ, টাকার চেয়ে অজয়কে হুমকি দিত দিব্যা-দীপক। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, স্ত্রী ও তার প্রেমিকের অমানবিক অত্যাচারে মানসিক অবসাদে ভুগছিল অজয়। তার জেরেই এই আত্মহত্যার ঘটনা। ১৮ জুন গ্রামে একটি গাছ থেকে অজয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পুলিসের তদন্ত। সেই সূত্রে হাতে আসে অজয়ের একটি ভিডিও। সেখানে অজয় জানিয়েছেন, ‘আমার স্ত্রী দিব্যা ও তার প্রেমিক দীপক দিনের পর দিন আমায় উত্যক্ত করেছে। দীপক শম্ভাজিনগরে থাকে। পুলিস অফিসার। আজও আমায় বাবাকে খুন করার জন্য চাপ দিয়েছে ওরা। বলছে, আমি যেন আমার নামে থাকা জমি বিক্রি করি। সেই টাকা দিয়ে মুম্বইয়ে ফ্ল্যাট কিনবে ওরা। এটা আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই নিজের জীবন শেষ করছি।’ জানা গিয়েছে, দীপকের পদোন্নতির জন্য এই টাকা চেয়েছিল দিব্যা। ভিডিওতে অজয় বলেন, ‘পদোন্নতির জন্য দীপকের ৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। প্রথমে গম বিক্রি করে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। তারপর সোনা বন্ধক রেখে দিব্যার অ্যাকাউন্টে আরও ২ লক্ষ টাকা পাঠাই। এখন ওরা বাকি দেড় লক্ষ টাকা চাইছে। বাবাকে খুন করতে বলছে। এই দু’জনের জন্যই আত্মহত্যা করতে চলেছি।’ শুধু অত্যাচার নয়। অজয়ের কাছে প্রথম বিয়ের কথা পর্যন্ত লুকিয়েছিল দিব্যা। অজয়ের কথায়, ‘বিয়ের দেড় বছর পর বিষয়টা বুঝতে পারি। দিব্যা তখন অন্তঃসত্ত্বা।’