Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসি লোকাল নেই কেন? সরব হুগলির নিত্যযাত্রীরা

হুগলির লাইফলাইন বলা হয় লোকাল ট্রেনকে। অথচ সেখানেই যাত্রীদের সুবিধার জন্য এসি লোকাল দেওয়া হল না! সম্প্রতি শিয়ালদহ-রানাঘাট রুটে এসি লোকাল চালুর পর এই প্রশ্নে সরব হয়েছে হুগলির নিত্যযাত্রী মহল।

এসি লোকাল নেই কেন? সরব হুগলির নিত্যযাত্রীরা
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির লাইফলাইন বলা হয় লোকাল ট্রেনকে। অথচ সেখানেই যাত্রীদের সুবিধার জন্য এসি লোকাল দেওয়া হল না! সম্প্রতি শিয়ালদহ-রানাঘাট রুটে এসি লোকাল চালুর পর এই প্রশ্নে সরব হয়েছে হুগলির নিত্যযাত্রী মহল। এক্ষেত্রে তারা পরিকল্পিত অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। এসি লোকালের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাকও উঠেছে নেট-নাগরিক মহলে। বুধবারই হুগলির নাগরিক সংগঠন ‘সিটিজেন্স ফোরাম’ বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেলকর্তাদের স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসি লোকাল না দিয়ে বহু পুরনো এবং লাভজনক রেলপথকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হাওড়া ডিভিশনের রেলকর্তারা মুখ খুলতে চাননি। কিন্তু তাতে নানা স্তরে প্রতিবাদ থেমে থাকছে না। 

Advertisement

নিত্যদিন ব্যান্ডেল-হাওড়া লোকালে যাতায়াত করেন সঞ্জয় পাশোয়ান। পেশায় ব্যবসায়ী সঞ্জয়বাবু বলেন, ‘হুগলির লাইফলাইন হল লোকাল ট্রেন। সেখানে যাত্রীদের সুবিধার জন্য একটি এসি ট্রেন চালানোর কথা ভাবাই যেত। কিন্তু হাওড়া-হুগলি রেলপথ থেকে দেদার রোজগার করলেও রেলকর্তারা যাত্রী পরিষেবা নিয়ে কিছুই ভাবেন না। তাই শিয়ালদহ ডিভিশনে এসি লোকাল চালু হলেও হাওড়া-হুগলির কপালে জোটে না কিছুই।’ আরেক নিত্যযাত্রী বাঁশবেড়িয়ার মালতী কোলে বলেন, ‘হাওড়া-বর্ধমান প্রায় দু’ঘণ্টার পথ। এই লাইনে এসি লোকাল চালু করলে আমরাও তার সুবিধা পেতাম।’ সিটিজেন্স ফোরামের সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী শৈলেন পর্বত বলেন, ‘কোন যুক্তিতে হাওড়া ডিভিশনে এসি লোকাল চালু করা যায় না, তা আমরা বুঝিনি। আমাদের সংগঠনের তরফে দাবিসনদ পেশ করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি হল, হাওড়া-ব্যান্ডেল বা হাওড়া-বর্ধমান (মেন) একটি জনপ্রিয় রেলপথ। সেখানে যাত্রীদের একটু বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কথা রেলকর্তারা কেন ভাববেন না? আমরা প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন নামব। শুধু নাগরিক স্বাচ্ছন্দই বিষয় নয়, হাওড়া-হুগলি রেলপথের নিত্যযাত্রীদের বঞ্চনার বিষয়টিও এর সঙ্গে জুড়ে আছে।’ নিত্যযাত্রীদের দাবির সঙ্গে সহমত বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউও। তিনি বলেন, ‘রেল সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসার যান। হুগলির মানুষ কেন এসি লোকালে চাপার সুযোগ পেলেন না, সেটা আমাদেরও প্রশ্ন।’ উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান তথা হুগলি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ‘রেল আর সাধারণ মানুষের কথা ভাবে না। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। লাভ-ক্ষতির অঙ্কেই পরিকল্পিত বঞ্চনা করা হয়েছে হুগলির মানুষকে।’ এভাবেই এসি লোকাল ইস্যুতে হাওড়া-হুগলির যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ দানা বাঁধছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ