Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কে বড় নেতা? বিধায়ক প্রতিনিধি না পার্টির পদাধিকারী, বিজেপিতে চর্চা

দুর্গাপুরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিধায়ক ও পদাধিকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যস্ত, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

কে বড় নেতা? বিধায়ক প্রতিনিধি না পার্টির পদাধিকারী, বিজেপিতে চর্চা
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: মঙ্গলবার দুর্গাপুরের কোরঙ্গপাড়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। সরকারি জমিতে থাকা ক্লাব ঘর ভাঙতে আসে এডিডিএ। গেরুয়া রঙে রাঙানো সেই ক্লাবের দেওয়াল। বুলডোজার দাঁত বের করতেই স্থানীয় কিছু লোকজন নিজেদের বিজেপি নেতা-কর্মী বলে দাবি করে ক্লাব ঘর ভাঙতে বাধা দেন। অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তেজনারায়ণ পাণ্ডের নেতৃত্বে কিছু লোকজন ভাঙতে সাহায্য করেন। শেষমেষে সফল তেজনারায়ণ। গতকাল সোমবারও বিজেপির তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তেতে ওঠে অণ্ডাল। অভিযোগ, এক গোষ্ঠীর লোকজন অন্য গোষ্ঠীর লোকেদের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা করেন। দু’টি গোষ্ঠীই বিজেপির দু‌ই নেতার অনুগামী বলে জানা গিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পাঞ্চলে বিজেপির গৃহযুদ্ধ বাড়ছে। ফলে, এগুলি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আসানসোল থেকে দুর্গাপুর। অণ্ডাল থেকে জামুড়িয়া—ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। কুর্সি দখলের তিন মাসের মধ্যেই প্রতি এলাকায় শাসক দলের একাধিক গোষ্ঠী। সামলাতে এখন হিমশিম দশা পুলিশ ও প্রশাসনের। কার কথা শুনবেন, আর কার কথা শুনবেন না, তা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। সাধারণ মানুষও তিতিবিরক্ত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামলাতে পুলিশ ব্যতিব্যস্ত থাকলে আইন-শৃঙ্খলা দেখবে কখন?    

Advertisement

শিল্পাঞ্চলে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠীবাজি সামনে আসছে বিজেপির বিধায়ক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলের বুথ ও মণ্ডল স্তরের পদাধিকারিকদের মধ্যে। বিভিন্ন এলাকা দেখভালে  বিধায়ক নিজের অনুগামীদের নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ওই অনুগামী নিজেকে সেই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভাবছেন। তাঁর দাপটে আঁতে ঘা লাগছে সেখানকার বুথ সভাপতি, মণ্ডলের পদাধিকারিদের। এনিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে। যেখানে কারখানা রয়েছে সেখানে গোষ্ঠীর সংখ্যা আরও বেশি। কোনো বিজেপি নেতা বিএমএসকে সঙ্গী করে এলাকায় প্রভাব খাটাতে চাইছেন। কেউ আবার বিজেএমএম সহ একাধিক সংগঠনের নামে কারখানায় প্রভাব খাটাচ্ছেন। ফলে, বর্তমানে প্রায় বিরোধী শূণ্য পশ্চিম বর্ধমানে বিজেপির বড় শত্রু হয়ে উঠছে বিজেপিই। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী এলাকার বিধায়কদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের শাসকদলের এহেন লাগামহীন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নেপথ্যে কাজ করছে আসন্ন পুরভোট। আসানসোল ও দুর্গাপুরে চলতি বছরেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা। তার আগে নিজের এলাকায় প্রভাব দেখিয়ে পুর ভোটের টিকিটের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে বিভিন্ন লবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা নিয়েও পুলিশ, প্রশাসনকে আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে। 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দলের পদাধিকারী ও বিধায়কদের নিয়ে কোর কমিটি গঠন হয়েছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের উপস্থিতিতে এই কমিটির একাধিক বৈঠকও হয়েছে। তাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানা যাচ্ছে না। দুর্গাপুর বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, দুর্গাপুরে যাঁরা ক্লাব ঘর ভাঙাতে বাধা দিচ্ছিলেন তাঁরা কেউ বিধানসভা ভোটে বিজেপির হয়ে কাজ করেননি। ভোটের জেতার পর বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় নেতা রাজু নায়েক বলেন, আমি বিজেপির জেলা সম্পাদক পদেও ছিলাম। ভোটের তিনদিন আগে যোগদান করা তৃণমূল নেতা বিজেপি নেতা হতে পারে, রেজাল্টের পর বিজেপি করা কর্মীদের কী দোষ। আসানসোল বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, বিধায়ক নিজের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য এলাকায় প্রতিনিধি রাখতে পারেন। দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ