সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শ্রাবণ মাসের শুরুতেই ঐতিহাসিক তারাপীঠ মন্দিরে আসতে চলেছে একগুচ্ছ বড়ো বদল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের হয়রানি কমাতে এবং মন্দির চত্বরে শৃঙ্খলা ফেরাতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। আগামী শনিবার ১ শ্রাবণ থেকেই এই নতুন নিয়ম ও সময়সূচি কার্যকর করা হবে। জানা গিয়েছে, দেবী স্পর্শে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবার থেকে ভক্তরা গর্ভগৃহে ঢুকে দেবী তারার মূর্তি স্পর্শ করে পুজো দিতে পারবেন না। গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দেবীকে দর্শন ও চরণে পুজো নিবেদন করে বেরিয়ে আসতে হবে। গর্ভগৃহে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভেতরে কোনোরকম অঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা আর থাকবে না। পুজোর লাইনেই অঞ্জলি সেরে নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে এসে পাণ্ডাদের একাংশের হাতে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছিল সাধারণ ভক্তদের। মোটা টাকার বিনিময়ে চটজলদি পুজো পাইয়ে দেওয়ার চক্করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো সাধারণ পুণ্যার্থীদের। রাজ্যে পালাবদলের পর এই নিয়ে জোরালো অভিযোগ উঠতে থাকে। এমনকি, মন্দিরের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। যার তদন্ত করছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে পুরনো কমিটি ভেঙে গঠিত হয় নতুন কমিটি। যার সভাপতি তথা বিজেপি নেতা নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিখিলবাবু বলেন, দেবীকে স্পর্শ করে পুজো দেওয়ার ফলে গর্ভগৃহে দীর্ঘক্ষণ ভিড় জমে থাকত, যার জেরে সাধারণ লাইন থমকে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। ভক্তদের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। লাইনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার থেকে সময় মেপে আলাদা আলাদা লাইনের পুণ্যার্থীদের ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ লাইন একটানা ৩০ মিনিট চলবে। ৫০০ টাকার কুপনের লাইন ২০ মিনিট ও প্রোটোকল লাইন ১০ মিনিট চলবে। আগামী শনিবার থেকে মন্দিরের দরজা খোলা ও বন্ধের সময়ও বেঁধে দিয়েছে নতুন কমিটি। ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে দর্শনার্থীদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হবে। মধ্যাহ্নভোগের জন্য দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে একঘণ্টা দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সন্ধে ৬টায় দেবী তারার সন্ধ্যারতি শুরু হবে। আরতি শেষের পর সাতটা থেকে ফের ভক্তরা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন এবং পুজো দিতে পারবেন। বিশেষ দিন বাদে রাত ১০টায় মন্দিরের দরজা বন্ধ হবে। যদিও স্থানীয় সূত্রে খবর, এর আগেও গর্ভগৃহে পুজোপাঠ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাণ্ডাদের একাংশের দাপটে ও টাকার লোভে সেই নিয়ম ভেস্তে যায়। তবে, এবার নতুন কমিটির সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যই তাঁদের মূল লক্ষ্য এবং নিয়মের অন্যথা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন নিয়মাবলী চালু হলে পুণ্যার্থীরা অনেক কম সময়ে এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দেবী দর্শন ও পুজো সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরতে পারবেন।