নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রয়েছে শালবনিতে সরকারি জমি দখল করে ভুয়ো নথি বানিয়ে বিক্রির অভিযোগ। কিন্তু সেই বিপুল টাকা কোথায় গেল? সিআইডির জেরায় জবাব এড়াচ্ছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সুমিতের দাবি, পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরা কলকাতায় কাকে টাকা দিয়েছেন সেটা তাঁর জানা নেই। টাকা-পয়সার বিষয় তিনি ডিল করতেন না। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি জমি দখল করে বিক্রয় সংক্রান্ত কোনো অভিযোগই গ্রহণ না-করার হুকুম দিয়েছিলেন সুমিত। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শনিবারের পর, সিআইডির নোটিস অনুযায়ী রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ ভবানীভবনে হাজিরা দেন সুমিত। এদিন ম্যারাথন জেরার পরই ছাড়া হয় তাঁকে।
শালবনিতে জাতীয় সড়কের ধারে সরকারি জমি দখল করে ভুয়ো নথি বানানো হয়। অভিযোগ, এই জমি বেচতেন জেলা পুলিশের হাতে ধৃত সুজয় হাজরা। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘেঁটে জমি বিক্রি এবং টাকা লেনদেন সংক্রান্ত সুমিতের সঙ্গে একাধিক মেসেজ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এরপর থেকেই সুমিতের খোঁজে চলছিল। তাঁর নাগাল পেতে ব্যর্থ হয় এসটিএফ, সিআইডি ও জেলা পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, সুমিত জাল নথি তৈরির বিষয়টি জানতেন। সুজয় হাজরা যে ভুয়ো নথি এবং সিন্ডিকেট বানিয়ে বিঘার পর বিঘা জমি বেচেছেন, এই কীর্তি দুজনের চ্যাট থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সিআইডি জেনেছে, মেসেজ মারফত সুজয় এও জানান সুমিতকে, কেউ কেউ এর প্রতিবাদ করছেন। পুলিশে অভিযোগ জানানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তদন্তে উঠে এসেছে ডায়মন্ডহারবারের এমপির পিএ জানান, ভয়ের কিছু নেই, এই ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে যা কথা বলার তা তিনি বলে নেবেন। অভিযোগ, রাজ্য পুলিশে ইনস্পেক্টর থেকে শুরু করে আইপিএস পর্যন্ত বদলি তাঁরই নির্দেশে হতো। তাই ওই জেলার পুলিশকর্তাদের তিনি হুঁশিয়ার করে দেন—এই সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে তা যেন গুরুত্বই দেওয়া না-হয়।
বিষয়টি নিয়ে রবিবার সুমিতকে প্রশ্ন করেন সিআইডির তদন্তকারী অফিসাররা। জবাবে সুমিত তাঁদের জানান, পূর্বতন সরকারের কোনো পদেই তিনি ছিলেন না। তাই পুলিশ কর্তাদের ফোন করার কোনো প্রশ্ন নেই। আর তাঁর কথা তাঁরা কেনই-বা শুনবেন! যদিও অফিসারদের বক্তব্য, গুরুতর বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করছেন এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। এই জমি বিক্রির টাকার বিষয়ে, শনিবারের পর রবিবারও সুমিতের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে কথপোকথন কিছু রেকর্ডিংও করে রেখেছিলেন সুজয়। এমনকি সুজয় বাড়িতে বসে ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করেন। সেখানে বলা ছিল, টাকা কোথায় এবং কার কাছে যাচ্ছে। এই রেকর্ডিং তুলে ধরা হয় সুমিতের সামনে। তিনি জানান এটি তাঁর গলা নয়। এরপর আরও কিছু তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হলে অবশ্য তিনি চুপ করে যান। একইসঙ্গে সুমিত দাবি করেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ওই তৃণমূল নেতা কোথায় কাকে টাকা পাঠিয়েছেন তা তাঁর জানা নেই। এই বাবদ কোনো টাকাই তিনি পাননি। টাকা যে ক্যামাক স্ট্রিটেই গিয়েছে, সে সম্পর্কে আরও জোরালো কিছু তথ্য-প্রমাণ এবং নথি আধিকারিকরা তুলে ধরার পর অবশ্য চুপ করে ছিলেন সুমিত। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আসলে চুপ করে থেকে এমপির আপ্তসহায়ক অনেক কিছু গোপন করেছেন এবং সিআইডি তদন্তে অসহযোগিতা করছেন। জেরার জন্য তাঁকে আবার ডাকা হবে বলেই খবর।