সংবাদদাতা, বহরমপুর: বেগুন গাছে অজানা মোজাইক ভাইরাসের আক্রমণ। এর ফলে শুরুতে গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করেছে। দিন কয়েকের মধ্যে ভাইরাসের হামলায় গোটা গাছ হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। ফলন তলানিতে এসে ঠেকছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও সুফল না মেলায় দুশ্চিন্তায় জেলার বেগুন চাষিরা। চাষিদের দাবি, ভাইরাস আক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যেই বেগুনের জমি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কীটনাশকই কাজে আসছে না।
উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, জমিতে একবার ভাইরাস আক্রমণ হলে তা রোধ করা কঠিন। ভাইরাস আক্রমণ ঠেকাতে চাষিদের চারা রোপণের শুরুতেই প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর প্রিয়াঞ্জন সানিগ্রাহি বলেন, এক ধরণের সাদা মাছি এই ভাইরাসের বাহক। সাদা মাছি আটকাতে বেগুন চাষের সঙ্গে আলের চারপাশে ভুট্টা গাছ লাগালে ভাইরাস রোধের পাশাপাশি চাষিরা বাড়তি আয়ও করতে পারবেন। কিংবা চার ফুট উচ্চতায় পলিথিনের বেড়া দেওয়া উচিত। কারণ সাদা মাছি বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে না। বেগুন চাষিদের উদ্দেশে প্রিয়াঞ্জনবাবুর পরামর্শ, নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করলে সাদা মাছির প্রভাব কমানো যায়। তবে এই মূহূর্তে ভাইরাল হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাবে না।
এক বছর ধরে বেগুন চাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কখনও অতিবৃষ্টির কারণে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার কখনও গাছে ভাইরাসের আক্রমণ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। যার জেরে বছরভর সবজি বাজারে বেগুনের দাম আগুন হয়ে থাকছে। এক সবজি বিক্রেতার দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে বাজারে বেগুনের আমদানি খুবই সীমিত। দামও ৭০ টাকা কেজির নিচে নামেনি। এপ্রিল, মে মাসে বেগুনের দাম অনেকটাই নামে। এবার কম আমদানির ফলে সবজি বাজারে বেগুনের দাম ৮০ টাকা কেজিতেই আটকে রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় বহরমপুর, বেলডাঙা, সারগাছি, শক্তিপুর, বড়ঞা, কান্দি, হরিহরপাড়ায় প্রচুর বেগুন চাষ হয়। এবারও বেগুন চাষে ভাটা পড়েনি। তবে ভাইরাল হামলায় গাছ মরে যাওয়ায় ফলনে প্রভাব পড়ছে।
বড়ঞা ব্লকের পারশালিকার রবীন্দ্রনাথ ঘোষ প্রায় এক বিঘা জমিতে বেগুন ফলিয়েছেন। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ভালো ফলন হয়েছে। এরপর থেকে দেখছি গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। তিন, চারদিনের মধ্যেই সেই গাছ মরে যাচ্ছে। অনেক কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। তাতে চাষের খরচা বেড়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি।
সারগাছির বেগুন চাষি গিয়াসুদ্দিন মোল্লা বলেন, বেগুন চাষ করেই আমার সংসারের হাল ফিরেছে। কিন্তু এক বছর ধরে বেগুন চাষে খরচাও বেড়েছে। কমেছে আয়। কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নিয়েও গাছ টিকিয়ে রাখতে পারছি না। মোজাইক ভাইরাস আক্রান্ত বেগুন গাছ দেখছেন এক চাষি।