নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: খাদ্যরসিক বাঙালির অন্যতম প্রিয় একটি খাবার বিরিয়ানি। ইদানিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্লেটে জায়গা করে নিয়েছে বিরিয়ানি। এবার সেই খাবারের দোকান নির্বাচন নিয়ে নিদান হিন্দু জাগরণ মঞ্চের! তাদের বার্তা— বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে! ইতিমধ্যে তারা শহরে এমন বার্তা দিয়ে ফ্লেক্স লাগিয়েছে। উৎসবের মরশুমে এনিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন দুই মন্ত্রী তথা মেয়র অশোক ভট্টাচার্য ও গৌতম দেব। অশোকের বক্তব্য, ওই মঞ্চ জঘন্য কাজ করেছে। গৌতমের প্রতিক্রিয়া, নিন্দনীয় ঘটনা। যদিও, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, কোনো সম্প্রদায়কে তারা আঘাত করেনি। হিন্দুদের স্বার্থেই ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি এনিয়ে সরগরম।
বাঙালির প্লেটে অনেকদিন আগেই জায়গা করে নিয়েছে বিরিয়ানি। শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিরিয়ানির প্রচুর স্থায়ী দোকান হয়েছে। উৎসবের মরশুম হওয়ায় শহরের আনাচে-কানাচে নতুন করে আরও কিছু বিরিয়ানির দোকান চালু হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবার বিরিয়ারি খাওয়ার দোকান নির্বাচন নিয়ে শিলিগুড়ি শহরের রাস্তায় রাস্তায় ফ্লেক্স ঝুলিয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। এমন ফ্লেক্সের সংখ্যা শতাধিক। সেখানে লেখা— বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে। ওই ফ্লেক্স ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এই শহরের একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে। এখানে ৪৫ শতাংশ অবাঙালি মানুষের বাস। বাঙালি, নেপালি, হিন্দু, মুসলমান সকলে মিলেমিশে বসবাস করছে। কোনোদিন এখানে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু, বিরিয়ানির দোকান চিহ্নিত করা নিয়ে যে ধরনের ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে তা জঘন্য। ওই মঞ্চ আরএসএসের একটি সংগঠন। বিজেপির ইন্ধনে চলে। শিলিগুড়ির আরএক প্রাক্তন মেয়র তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল নেতা গৌতম দেব বলেন, এটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে এ ধরনের ফ্লেক্স দুর্ভাগ্যজনক। মমতাপন্থী তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) কুন্তল রায় বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে। বিরিয়ানির দোকান নির্বাচনের ওই ফ্লেক্স ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এটা মানা যায় না।
এনিয়ে পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, ওই ফ্লেক্সের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। যে সংগঠন ফ্লেক্স দিয়েছে, তারাই বলতে পারবে। দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় সিপিএম ও তৃণমূলীরা আবলতাবল বকছে।
শুধু বিরিয়ানির দোকান নির্বাচন নয়, একাধিক বিষয়ের উপর হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ফ্লেক্স লাগিয়েছে। মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর কমিটির সহসংযোগ সুজিত বসু বলেন, ওই পোস্টারে আপত্তিকর কিছু বলা হয়নি। হিন্দুদের স্বার্থেই ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে। • এই ধরণের ফ্লেক্স ঘিরেই বিতর্ক শিলিগুড়িতে।



