নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এখনও কেন চুপ? পাকিস্তানকে কবে কড়া জবাব দেবেন মোদি? কোথাও গেল তাঁর ৫৬ ইঞ্চি ছাতি? লাল চোখ দেখানোর চ্যালেঞ্জ? শুক্রবার পহেলগাঁও নিয়ে এমনই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। এদিন বিকেলে এআইসিসির সদর দপ্তর ২৪ আকবর রোডে বসেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে জয়রাম রমেশ, ভূপেশ বাঘেল, চরণজিৎ সিং চান্নি বললেন, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রত্যাঘাত চাই। গোটা দেশ মুখিয়ে আছে। মোদি সরকার এ ব্যাপারে শত্রুদেশ পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে যা ব্যবস্থা নেবে, তা কংগ্রেস সম্পূর্ণ সমর্থন করবে। কিন্তু ঘটনার পর ১০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না। পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় কার? কেন কেউ দায় স্বীকার করলেন না? সরকার কি তবে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ? এইসব প্রশ্নের জবাব তো নরেন্দ্র মোদিকে দিতেই হবে। তাঁর লাল চোখ কোথায় গেল? ৫৬ ইঞ্চির ছাতির হুঙ্কার কি কেবল মুখেই?
অন্যদিকে, জনগণনার মধ্যে জাতিগত সমীক্ষা অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাপতিত্বে বৈঠকে সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি ওয়ার্কিং কমিটির প্রায় সব সদস্যই হাজির ছিলেন। এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, কোনওভাবেই যেন বিজেপি এই ইস্যু কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিতে না পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি যোগী আদিত্যনাথ, জে পি নাড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অনুরাগ সিং ঠাকুরের মতো বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জাতি জনগণনা ইস্যুতে কীভাবে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছিলেন, তা তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস। জাতি জনগণনায় সরকারকে রাজি হতে বাধ্য করার কৃতিত্বও তুলে ধরা হবে। দেশজুড়ে হবে প্রচার।
যে মোদি জাতি জনগণনার সমালোচনা করে কংগ্রেসকে আরবান নকশাল পর্যন্ত বলেছেন, সেই তিনিই বিষয়টিতে রাজি হওয়ায় কংগ্রেসও অবাক হয়ে গিয়েছে। মোদির এই আচরণকে ‘গিরগিটির রঙ বদলে’র সঙ্গেই তুলনা টেনেছেন ভূপেশ বাঘেল। তিনি বলেন, বিজেপি গিরগিটির মতো রঙ বদলায়। জয়রাম রমেশের অভিমত, সরকার পহেলগাঁওয়ের ব্যর্থতা ঢাকার দৃষ্টি ঘোরাতেই আচমকাই জাতি জনগণনায় রাজি হয়েছে। সামনে বিহার নির্বাচনও লক্ষ। কংগ্রেসের প্রশ্ন, ঘোষণা তো হয়েছে। কিন্তু কবে হবে গণনা, কেন সময় বলছে না মোদি সরকার?
জনগণনার কাজ চলার সময় জাতিগত সমীক্ষা চালানো হবে বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই জাতিগত সমীক্ষার ধুয়ো তুলছে শাসকদল বিজেপি। তারই মধ্যে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্গত বিভিন্ন শ্রেণিকেও নথিভুক্ত করা হবে। সমীক্ষার অধীনে ধর্মের পাশাপাশি কাস্ট উল্লেখের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হবে। সবার জন্যই থাকছে এই ব্যবস্থা। তবে সামগ্রিকভাবে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণের যে দাবি উঠেছে, তা মানা হচ্ছে না।



