সংবাদদাতা, লালবাগ : কয়েকদিন ধরে আকাশের মুখ ভার। সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। তার উপর দফায় দফায় নিম্নচাপের বৃষ্টি। আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে জমির জমা জলে গাঁদাফুল গাছের গোড়া পচতে শুরু করবে। ফলে গাছ শুকিয়ে ফুল, কুঁড়ি কালো হতে শুরু করবে। বিঘের পর বিঘে ফুলগাছ পচে নষ্ট হবে। স্বাভাবিকভাবেই ফুল চাষে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে লালবাগ মহকুমার ফুল চাষিদের। জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী জানান, টানা বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তবে এই মুহূর্তে তেমন পরিস্থিতি নেই।
লালবাগ মহকুমার রণসাগর, কমলবাগ, নশিপুর, সন্ন্যাসীতলা, কুর্মিটোলা, নারকেলতলা, হরিগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় ধান, পাট ও সবজির পাশাপাশি সারা বছর ধরে গাঁদা ফুলের চাষ হয়। সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাঁদা ফুলের চাহিদার পাশাপাশি কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কিছু চাষি গাঁদা ফুল চাষকেই জীবিকা হিসেবে নিয়েছেন। ফুলচাষিরা বলেন, প্রথম দিকে হাতে গোনা কয়েকজন চাষি ধান, সবজির পাশাপাশি স্বল্প জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুলের চাষ শুরু করেন। ভালো লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় পরবর্তীতে আরও অনেকেই ফুল চাষে নামেন।
কমলবাগের ফুলচাষি পরেশ দাসের কথায়, দু’বছর ধরে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। লাভ তো দূরের কথা চাষের খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলছে তাতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। নশিপুরের ফুলচাষি অঞ্জন ভুঁইমালি বলেন, পুজোর মরশুমে ভাল মুনাফার আশায় দু’বিঘা জমিতে ফুলচাষ করেছি। গাছ বড়ো হয়ে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। কিন্তু কয়েকদিনের দফায় দফায় বৃষ্টিতে জমিতে জল জমতে শুরু করেছে। এদিকে আকাশের অবস্থাও ভাল নেই। আবার কয়েক পশলা ভারী বৃষ্টি হলে চরম ক্ষতি হবে।
হরিগঞ্জের ফুল চাষি রাকেশ মণ্ডল বলেন, দুর্গাপুজো থেকে পরবর্তী কয়েক মাস ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। কাজেই ওই সময়ে ফুলের চাহিদা থাকায় ভাল রোজগার হয়। গত কয়েকদিন ধরে টানা মেঘলা আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিকারক পোকার উপদ্রব শুরু হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া না হলে গাছগুলিকে বাঁচানো যাবে না।