মিউটেশন ফের কবে চালু? প্রশ্ন ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দাদের
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইংলিশবাজার পুরসভায় বন্ধ হয়ে থাকা মিউটেশন কবে থেকে চালু হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন শহরবাসী। একইসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূল পুরবোর্ডের আমলে মিউটেশনের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট ফি কিংবা সার্ভিস ফি’র নামে যে মোটা টাকা নেওয়া হত, তার থেকে কি সুরাহা মিলবে? এনিয়ে অবশ্য কোনো আশা জাগাতে পারছেন না ইংলিশবাজার পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুর দপ্তর ও স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সুডা) সঙ্গে কথা বলে মিউটেশন চালু করা হবে। তবে টাকার পরিমাণ কমবে কি না এখনই বলা সম্ভব নয়। পুর দপ্তর যেটা ঠিক করে দেবে, সেটা মেনেই মিউটেশন ফি নেওয়া হবে। 

Advertisement

এর আগে ইংলিশবাজার পুরসভায় সরকার নির্ধারিত মিউটেশন ফি’র সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট ফি’র নামে গিফট ডিডের ক্ষেত্রে মোট ভ্যালুয়েশনের উপর এক শতাংশ, সেল ডিডের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ও কমার্শিয়াল ডিডের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ ফি নেওয়া হত। ফলে মিউটেশন করাতে গিয়ে মোটা টাকা দিতে হত পুরসভাকে। এনিয়ে অনেকেই আপত্তি জানান। মিউটেশন ফি’র সঙ্গে বাড়তি মোটা টাকা নেওয়া ঘিরে তৃণমূল বোর্ডের সঙ্গে পুরসভার তৎকালীন এগজিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তীর বিরোধ বাঁধে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইংলিশবাজার পুরসভায় বন্ধ হয়ে যায় মিউটেশন।
সম্প্রতি পুরসভায় পালাবদল হয়ে বিজেপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও এখনও মিউটেশন চালু হয়নি। গত ৭ অক্টোবর ইংলিশবাজার পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অম্লান ভাদুড়ি ঘোষণা করেছিলেন, শহরের বাসিন্দাদের উপর থেকে অপ্রয়োজনীয় কর প্রত্যাহার করা হবে। সেইমতো মঙ্গলবার জঞ্জাল কর তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পরই শহরবাসী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, মিউটেশনের সময় বিভিন্ন নামে পুরসভা এতদিন যে মোটা টাকা নিয়ে এসেছে, তা থেকে কি সুরাহা দেবে বিজেপি পরিচালিত নয়া পুরবোর্ড?
এনিয়ে বিধায়ক তথা চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে কিছু জানাতে না পারলেও গত কয়েকমাস ধরে মিউটেশন বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা। তাঁরা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট কিনে রেজিস্ট্রির পর মিউটেশন করাতে পারছেন না। মিউটেশন বন্ধ থাকায় পুরসভার আয়ও ধাক্কা খেয়েছে। এতে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন, গাড়ির তেলের খরচ, বিদ্যুৎ বিল সহ আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুরসভাকে।
বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়ে চেয়ারম্যান অম্লান ভাদুড়ি বলেন, পুরসভার তো ঘাটতি আছেই। প্রায় ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর প্রতিমাসে বেতন দিতে আড়াই কোটি টাকা লাগে। তার উপর আরও অনেক খরচ আছে। জঞ্জাল কর প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই খাতেও পুরসভার ঘাটতি বাড়বে। পুরসভার আয় বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।