Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

এত ভোটার বাতিলের পরও বঙ্গে পরাজিত হলে কী করবেন মোদি? প্রশ্ন কেজরিওয়ালের

কেরল এবং অসমের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ! এবার নরেন্দ্র মোদির পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গ। বাংলা দখলে ঝাঁপিয়েছেন তিনি। ইস্তাহার থেকে নতুন ঘোষণা সবই প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে একের পর এক সমাবেশে।

এত ভোটার বাতিলের পরও বঙ্গে পরাজিত হলে কী করবেন মোদি?  প্রশ্ন কেজরিওয়ালের
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেরল এবং অসমের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ! এবার নরেন্দ্র মোদির পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গ। বাংলা দখলে ঝাঁপিয়েছেন তিনি। ইস্তাহার থেকে নতুন ঘোষণা সবই প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে একের পর এক সমাবেশে। এই আবহে শনিবার মোদি এবং বিজেপিকে কটাক্ষে বিঁধলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আম আদমি পার্টি (আপ) সুপ্রিমো বলেছেন, সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দখল করা, অসংখ্য মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া... এত কিছুর পরও যদি পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত হতে হয়, তাহলে মোদিজি কী করবেন? সুকৌশলে এই প্রশ্ন তুলে বাংলার জয়-পরাজয়ের সঙ্গে মোদির দায়দায়িত্বকে যুক্ত করে দিয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শুরু অনেক আগেই, প্রচারপর্বে কেজরিওয়াল এমন প্রশ্ন করলেন  যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বাংলায় নরেন্দ্র মোদি বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে পাঁচবার মমতার কাছে পরাজিত হয়েছেন মোদি। এবার তিনি আর হারের দায় এড়াতে পারবেন না। বিশেষ করে এতসব ব্যবস্থা নেওয়ার পর। একইসঙ্গে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীকে অস্বস্তিতে ফেলতে আপ সুপ্রিমো এই ইঙ্গিতও বাসিয়ে দিয়েছেন যে, হারের সম্পূর্ণ দায় মাথায় নিয়ে মোদি কি তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন? কেজরিওয়ালের এই কুশলী কটাক্ষে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল কংগ্রেসও। রাজ্যসভার সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন যেমন কেজরিওয়ালের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘মোদিজি বাংলায় যখন পরাজিত হবেন, তখন ফলপ্রকাশের পর আমরা তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই উপহার দেব!’ 

Advertisement

বাংলায় প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। অন্যান্য বছর ভোটগ্রহণের সাধারণত ১০-১২ দিন আগে থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে পুরোদস্তুর নির্বাচনি সভা করে থাকেন মোদি। কিন্তু ২০২৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা ভোটে তিনি মার্চ মাস থেকেই যাতায়াত শুরু করেছেন বাংলায়। এভাবে একইদিনে একের পর এক জেলায় তাঁর সমাবেশ ও নির্বাচনি প্রচার থেকে স্পষ্ট যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে বঙ্গ বিজেপির কোনো মুখ না থাকায় মোদিকেই নামানো হয়েছে সেনাপতির ভূমিকায়। তাঁকে সামনে রেখেই ভোটের লড়াই করছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে এসআইআর হয়েছে ১২ রাজ্যে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৬ কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু সর্বত্র মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়েছে গোটা প্রক্রিয়া। বাংলায় যে অরাজকতা, ভোগান্তি, অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, সেরকম কোনো রাজ্যেই দেখা যায়নি। বাংলার ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া একপ্রকার জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সেই বিতর্ক আরও উসকে দিতেই কেজরিওয়ালের এদিনের প্রশ্ন, এতকিছু করেও বিজেপি জয়ী না হলে মোদি কী করবেন? 

সম্পর্কিত সংবাদ