নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় সরকার পরিবর্তন হয়েছে। সময় বদলেছে। শিক্ষিত বাঙালির আলোচনার বিষয় ধীরে যাচ্ছে বদলে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে জানতে হবে, বুঝতে হবে। তার জন্য পড়াশোনা করতে হবে, বলছে বাঙালিদের একাংশ। শুধুমাত্র গুগলের উপর আর ভরসা রাখতে চাইছেন না তাঁরা। কলেজ স্ট্রিট চত্বরে গেলেই সে বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে। বইয়ের দোকানের বাইরে অন্যান্য গল্পের বই, পাঠ্যবইয়ের পাশে জায়গা করে নিয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা কাহিনি।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের বিক্রি কি হঠাত্ করে বেড়ে গিয়েছে? কলেজ স্ট্রিটে কফি হাউজ লাগোয়া বেশ কয়েকটি বইয়ের দোকানে রয়েছে ভারতকেশরীর ছবি দেওয়া প্রচ্ছদ সম্বলিত বই। স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা নেতাজি সম্পর্কিত বইয়ের পাশেই জায়গা করে নিয়েছে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে লেখা পুস্তক। এক বই বিক্রেতার কথায়, ‘নানা ধরনের বই প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকরা এসে খোঁজ করছেন। তাই রেখেছি।’ আর এক দোকানির কথায়, ‘মানুষ এখন এসে এই বইয়ের খোঁজ করছেন। তাই রাখছি।’ বই বিক্রেতা দীপঙ্কর সাহা বললেন, ‘তথাগত রায়ের লেখা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর একটি বই আছে। ওই বইয়ের চাহিদা বেশ ভালোই বেড়েছে। উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত আর একটি বইয়েরও খোঁজ করছেন পাঠকরা।’ এছাড়াও আরও বিভিন্ন বইপত্র এই ক’দিনে প্রকাশিত হয়েছে। তেমনই শ্যামাপ্রসাদ নামাঙ্কিত একটি পাতলা বই চোখে পড়ল কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায়। গোপাল কর নামে বই বিক্রেতা বললেন, ‘এখন সময় বদলেছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে চর্চা বেড়েছে। তাই পাঠকরা এসে খোঁজ করছেন। অনেকেই অন্যান্য বই বেশি দামের জন্য কিনতে পারেন না। তাই একটু কম দামের বই রাখছি। পাঠকদের মধ্যে চাহিদা বাড়ছে তাই রাখছি আমরা।’ শুধু বাংলা বই নয়, তথাগত রায়ের লেখা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি ইংরেজি বইয়ের চাহিদাও ভালো। এক পাঠকের কথায়, চারদিকে তো নানা মুনির নানা মত। নিজেকে তো যাচাই করতে হবে। সবথেকে ভালো বিকল্প হচ্ছে বই। এ ছাড়া অন্য কিছু নেই। ইন্টারনেটে পাওয়া সব তথ্য বিশ্বাস করা যায় না। তাই ছাপার অক্ষরে ভরসা রাখতে হয়।