Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

'শীত কবে পড়বে দাদা? দোকান তো তুলে দিতে হবে এবার ... '

ডিসেম্বরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় শহরবাসীর জবুথবু হওয়ার কথা। কিন্তু তার বদলে একটা সোয়েট শার্ট কিংবা পাতলা সোয়েটারেই পৌষ মাস অনায়সেই কাটিয়ে দেওয়া যাচ্ছে।

'শীত কবে পড়বে দাদা? দোকান তো তুলে দিতে হবে এবার ... '
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:১২
Prefer us on Google

ইন্দ্রনীল সাহা, কলকাতা: ডিসেম্বরে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় শহরবাসীর জবুথবু হওয়ার কথা। কিন্তু তার বদলে একটা সোয়েট শার্ট কিংবা পাতলা সোয়েটারেই পৌষ মাস অনায়সেই কাটিয়ে দেওয়া যাচ্ছে। আর ঠান্ডার অভাবে ভুগতে হচ্ছে কলকাতার ওয়েলিংটনের ভুটিয়া মার্কেটকেও। শীতকালের কালেকশন দেখতে একবার হলেও ভুটিয়া মার্কেট ঘুরে যাননি এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রতিবছর নভেম্বরের শেষ থেকেই ভিড় করে পাহাড়ি শীত বস্ত্র কেনেন শহরবাসী। কিন্তু এবছর একেবারেই ভিন্ন ছবি। কার্যত মাছি তাড়াতে হচ্ছে হিমাচল প্রদেশ, দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে আসা ব্যবসায়ীদের। বিক্রি একেবারে তলানিতে।  

Advertisement

👉 ক্রেতা নেই, মাছি তাড়াচ্ছে ভুটিয়া মার্কেট। দেখুন ভিডিও

মঙ্গলবার দুপুর। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ২টো। হাতে গুনে তিন-চারটি লোক মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কালিম্পং থেকে এসেছেন রামু ডিকি। তাঁর দোকানে শীত বস্ত্রের অভাব নেই। স্টোল থেকে আরম্ভ করে জ্যাকেট, চাদর, কম্বল, কী নেই! দামও সাধ্যের মধ্যে। কিন্তু কিনবে কে ? ক্রেতা কোথায়? রামু ডিকি বলেন, 'এতো মন্দার বাজার আগে দেখিনি। সকাল থেকে কোনও বিক্রি হয়নি। এক-দু’জন এলেন, দেখলেন, চলে গেলেন।' 

প্রতি বছরের মতো এবারও হিমাচল প্রদেশ থেকে শীতের জামা কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন রাহুল রাঠি। বিক্রিবাটা তেমন না হওয়ায় মুখে হাসি নেই তাঁরও। আমাদের দেখা মাত্রই বললেন, 'ঠান্ডা কবে পড়বে? বলতে পারেন? বাজার একেবারেই ভালো নয়। এরকম আবহাওয়া থাকলে তো দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।' একই কথা শোনা গেল আরও এক ব্যবসায়ীর ইরফানের গলাতেও। তাঁর বাড়ি বিহারে। আগে বাবার সঙ্গে আসতেন। গত ১০ বছর ধরে ভুটিয়া মার্কেটে দোকান দিচ্ছেন। কতটা বদলে গিয়েছে বেচাকেনার ধরণ? তাঁর কথায়, ‘বাবা এখানে দোকান দিত। বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় আসতাম। দোকানে ভিড় সামলাতে পারতাম না। গত কয়েক বছর ধরেই এখানে ভিড় কমছে। এবার তো খুব খারাপ অবস্থা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ