


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার ভরদুপুরে যুবভারতীর বক্স অফিসের সামনে বেজায় ভিড়। ময়দানের মোহন বাগান তাঁবুও সরগরম। সমর্থকদের জটলায় ভেসে আসে সের্গিও লোবেরার নাম। প্রত্যাশার ফানুস উড়িয়ে রবসনদের দায়িত্ব নিয়েছেন লোবেরা। শনিবারের বারবেলায় মোহন বাগান ডাগ-আউটে লোবেরার অভিষেক। ফুটবলের মক্কায় হাই-প্রোফাইল কোচের অ্যাসিড টেস্ট। লোবেরা কি কিছুটা চাপে? সপাটে ব্যাট চালিয়ে লোবেরার জবাব, ‘চাপ উপভোগ করছি। মোহন বাগান কোচ হিসাবে আমি সম্মানিত, গর্বিত। চ্যাম্পিয়ন তকমা ধরে রাখতে হবেই।’
সোনায় মোড়া দল। অথচ পারফরম্যান্সে ধার নেই। বিশেষ করে ডুরান্ড কাপ ও সুপার কাপে একেবারেই সাধারণ লিস্টনরা। বাজারের দুরন্ত মশলা কোচের হাতে তুলে দিয়েছিল ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু বিরিয়ানির বদলে বিস্বাদ তরকারি মুখে রোচেনি। তবে রান্নাঘরে তারকা শেফ রেখে লাভ আছে কি? হোসে মোলিনা সেই যুক্তিতেই চাকরি হারান। লোবেরা অন্য পথের পথিক। তাঁর মন্ত্র, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। বললেন, ‘১-০ হওয়ার চেয়ে ৬-২ ফল আমার বেশি পছন্দের। আক্রমণই আমার দর্শন। চ্যাম্পিয়ন দলের দায়িত্ব নিয়ে ফিরে তাকানোর জায়গা নেই। সমর্থকদের চাপও থাকবে, আবার ভালোবাসাও। তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের প্রধান কাজ।’ বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ব্রাস্ট ফায়ার করতে তৈরি সের্গিও লোবেরা। দায়িত্ব নেওয়ার পর দল গোছাতে যথেষ্ট সময় পেয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। স্কোয়াডের ফিটনেসও বেড়েছে অনেকটাই। এক্ষেত্রে লোবেরার ব্যাখ্যা, ‘১৩ ম্যাচের টুর্নামেন্ট। তাই অজুহাত দেওয়ার কোনও জায়গা নেই। একেবারে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ আসলে বাস্তবের মাটিতে পা রেখেই সাফল্য চাইছেন তিনি।