দেবাশিস দত্ত: ৪৮ দেশের বিশ্বকাপ। কিন্তু ভারত খেলবে কবে? প্রতিটা বিশ্বকাপের আগে-পরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আপশোস, হাহাকার ঘুরপাক খায়। কেপ ভার্দে, কুরাসাওয়ের মতো ছোট্ট দেশ সেই আক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে। সত্যিই তো। ১৯৬২’র এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়নদের বর্তমান ফিফা র্যাংকিং ১৩৮। আন্তর্জাতিক সাফল্য থেকে ব্লু-টাইগার্স বহুদূরে। এর দায় কার? পাঠক, ঢিল উপরে ছুড়লে নীচের দিকেই আসে। ফেডারেশন, আইএফএ, কলকাতার ক্লাব— কেউই দায়িত্ব এড়াতে পারি না। সামনেই ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন। সেই মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল ম্যাচ দিয়ে হাইপ বাড়ানোর চেষ্টা। বলতে দ্বিধা নেই, এই আবেগটুকুই ভারতীয় ফুটবলের একমাত্র বিজ্ঞাপন। আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই আমাদের। প্রথমে এশিয়ান স্তরে সাফল্য পাওয়া জরুরি। তারপর না হয় বিশ্বকাপের কথা ভাবা হোক।
অনেকেই মনে করেন, টাকার অভাবেই ভারতীয় ফুটবল শুকিয়ে যাচ্ছে। অর্থের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সেটাই ব্যর্থতার একমাত্র কারণ নয়। অন্তত আমি সেই রাস্তায় হাঁটতে নারাজ। এফএসডিএল থাকাকালীন ফুলে ফেঁপে উঠেছিল আইএসএল। কোটি কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট। গ্ল্যামার, চটকের রমরমা। কিন্তু লাভের লাভ শূন্য। ভস্মে ঘি ঢালা ছাড়া কিছুই নয়। ফুটবল এক পা-ও এগয়নি। অ্যাকাডেমি তৈরিতে জোর দেওয়া উচিত ছিল। মুম্বইতে রিলায়েন্সের অ্যাকাডেমি ছাড়া কোনো ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজি সেই রাস্তায় হাঁটেনি। লাইসেন্সিংয়ের জন্য কোনোরকমে বয়সভিত্তিক দল খাড়া করা হয়। তাতে পাশ করাই লক্ষ্য। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, তাতে পরিকল্পনার ছাপ উধাও। অথচ সাপ্লাইলাইন তৈরিতে দারুণভাবে প্ল্যান সাজানোই যেত। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বৈঠকে সেই দাবিও তুলেছি। আইএসএলের সব ক্লাবেই অ্যাকাডেমি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। স্পেন বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ গ্রাসরুটে খুবই শক্তিশালী। একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে কোচ বাছাই করে অ্যাকাডেমিতে নিয়োগ করুক ফেডারেশন। এভাবেই সারা দেশে একই ভাবনায় গড়ে উঠবে সাপ্লাই লাইন। আই লিগেও বেশ কিছু দলের অ্যাকাডেমি রয়েছে। তাদের নিয়ে বয়সভিত্তিক লিগ হোক। রাতারাতি ম্যাজিক দেখানো অসম্ভব। কিন্তু ধীরে ধীরে সুফল মিলবেই। এসবের সঙ্গে ঘরোয়া লিগের হালও কষ্ট দেয়। কলকাতা লিগের আগের জৌলুস উধাও। জেলা ফুটবলের স্রোত স্তিমিত। বরং অন্য রাস্তায় হেঁটে বাংলা জুড়ে লিগ করার কথা ভাবা উচিত।
(সভাপতি, মোহন বাগান)