Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আমরাই তো সেই স্পেশাল ভোটার, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করি’, বলছে ভবানীপুরের আম জনতা

তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। তিনি হাঁটলে হাজারে হাজারে মানুষ পা মেলান। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখা শুরু করলে চোঙা মাইকের আওয়াজ যতদূর যায়, তত দূর পর্যন্ত লোক দাঁড়িয়ে পড়ে।

‘আমরাই তো সেই স্পেশাল ভোটার, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করি’, বলছে ভবানীপুরের আম জনতা
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৪
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। তিনি হাঁটলে হাজারে হাজারে মানুষ পা মেলান। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখা শুরু করলে চোঙা মাইকের আওয়াজ যতদূর যায়, তত দূর পর্যন্ত লোক দাঁড়িয়ে পড়ে। তাঁর আসার অন্তত এক ঘণ্টা আগে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সভাস্থল। তাঁর এক নির্দেশে মুহূর্তে জড়ো হয়ে যান দলের সৈনিকরা। মানুষের কাছে তিনি বিশ্বাস, তিনি আস্থা, তিনি ভরসা। আম জনতা এটাও মনে করে, ‘পারেন তিনি, পারবেনও তিনি’। তাই তো বাংলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে তাঁকে নিয়েই চর্চা। বিশ্ব দরবারেও তাঁর কর্মকাণ্ডকে কুর্নিশ জানানো হয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুর বলছে, চতুর্থবারের জন্য তিনিই হতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরের ভোটার অসীম সাউ, সাগর মল্লিক, গোপাল দাস, ভোলা দাস, সাগর হেলার কথায়, ‘আমরা তো সৌভাগ্যবান। আমরাই তো ভবানীপুরের সেই স্পেশাল ভোটার, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করি।’ 

Advertisement

ভোটারদের বক্তব্যের সূত্র ধরেই বলা যায়, রাজ্যের অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র ভবানীপুর। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক। কালীঘাট মন্দির যেখানে, সেই ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় বছরভর রাজনীতির আলো পড়ে। এখানেই মমতার বাড়ি। তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তির ‘মাদারল্যান্ড’ হিসাবেও চিহ্নিত ভবানীপুর। এহেন ভবানীপুরকে বলা হয় ‘মিনি ভারতবর্ষ’। সব ধর্ম, সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এখানে। তাঁরা বসবাস করছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, অফিসে যাচ্ছেন আবার সব উৎসবে একসঙ্গে আনন্দে মেতে উঠছেন। শান্তি, সংহতি, সম্প্রীতি—বাংলার চিরন্তন ঐক্যই বিদ্যমান ভবানীপুরে। এখানেই তৃণমূল প্রার্থী দলের সুপ্রিমো স্বয়ং। ২০১১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালেও এখানেই জয়ী হন মমতা। সেবার নির্বাচনে মমতার কাছে পরাজিত হন বিজেপি প্রার্থী চন্দ্র বসু। বিজেপির দিল্লির এক তাবড় নেতা তাঁকে ভুল বুঝিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিলেন বলে এখন দাবি করেছেন চন্দ্রবাবু। এখন তিনি তৃণমূলের সদস্য। এই অবস্থায় বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের যে প্রার্থীই থাকুন না কেন, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভবানীপুরের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এখানকার মানুষের ৩৬৫ দিনের সঙ্গী তিনি। আমাদের ঘরের মেয়ে।’ আর তৃণমূলের সৈনিকরা আওয়াজ তুলেছেন, ‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানে গলা মিলিয়ে মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বঙ্গবাসী। এবারও মমতাকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী করার আবেদন রেখেছে তৃণমূল। বাসিন্দারা বলছেন, ‘দিদি আমাদের সারা বছর দেখেন। ভোটের সময় আমাদের কর্তব্য তাঁর প্রতি আমাদের সমর্থন উজাড় করে দেওয়া।’ এখানে কেন জয় নিয়ে তৃণমূল নিশ্চিন্ত, তার কিছু কারণও সামনে এল এলাকাবাসীর সঙ্গে কথাবার্তার সূত্রে। তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামটাই এখানে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারণ। তার সঙ্গে রয়েছে তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন। বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৮টি ওয়ার্ডেই আছেন তৃণমূলের কাউন্সিলার। আর আছে নজরকাড়া উন্নয়ন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ