Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেটেনি জলকষ্ট, কুয়ো ভরসা দুর্গাপুরের আদিবাসী গ্রামের

দুর্গাপুরের আদিবাসী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল নেই। প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ বাড়ছে। জলকষ্টের বিস্তারিত খবর জানুন।

মেটেনি জলকষ্ট, কুয়ো ভরসা দুর্গাপুরের আদিবাসী গ্রামের
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: স্বাধীনতার আট দশক পরেও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের প্রতাপপুর পঞ্চায়েতের ঘোড়ামারা, বেলতলা, হাজরাপাড়া সহ আদিবাসী অধ্যুষিত বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও অধরা পরিস্রুত পানীয় জল। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও সমাধান না মেলায় ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, বামফ্রন্ট আমলে বসানো নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরেই অচল। তৃণমূল আমলে পানীয় জল সরবরাহের উদ্দেশ্যে পাইপ লাইন বসানো হলেও সেই প্রকল্পও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, পাইপ লাইনে কোনোদিনই নিয়মিত জল আসেনি। ফলে শতাধিক মানুষকে আজও নির্ভর করতে হয় একটি জীর্ণ-শীর্ণ কুয়োর ওপর। গ্রীষ্মের দাবদাহে সেই কুয়োর জলও তলানিতে ঠেকলে বাধ্য হয়ে অপরিষ্কার জলই ব্যবহার করতে হয়। গ্রামবাসী সোনিয়া মান্ডি বলেন, ‘এই কুয়োর জলই আমাদের পান করা থেকে রান্না, সবকিছুর ভরসা। গরমে কুয়ো শুকিয়ে গেলে দূরের পুকুরে স্নান ও কাপড় কাচতে যেতে হয়।’ দুখু মান্ডির অভিযোগ, ‘নলকূপ আছে, পাইপ লাইনও আছে, কিন্তু জল নেই। বছরের পর বছর একই অবস্থা চলছে।’ রমেন মুর্মুর কথায়, ‘একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাঝে মাঝে ট্যাঙ্কারে জল দেয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি।’ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি শোভা পান্ডে বলেন, ‘ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হলেও তা সাময়িক ব্যবস্থা। প্রবীণ মানুষ, গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের প্রতিদিন জল সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশাসনের অবিলম্বে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’ সংস্থার সদস্য তরুণকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সমীক্ষায় আশপাশের একাধিক গ্রামেও একই চিত্র উঠে এসেছে।
নতুন সরকারের কাছে এলাকার বাসিন্দাদের একটাই আবেদন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার যেন বদলায় তাঁদের নিত্যদিনের জলকষ্টের বাস্তব ছবিটাও। 
 ট্যাঙ্কার থেকে জল সংগ্রহ করছেন প্রতাপপুরের বাসিন্দারা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ