সংবাদদাতা, বহরমপুর: জেলার প্রায় প্রতিটি সেতুতে ওঠার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ারের কঙ্কাল। কোনোটার লোহার কাঠামোয় মরচে ধরে খসেখসে পড়ছে। কোনো ওয়াচ টাওয়ার মুখ ঢেকেছে লতাপাতায়। কার্যত দৈনদশায় ধুঁকছে তৃণমূল সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ওয়াচ টাওয়ারগুলি। দুর্ঘটনা কমাতে ওয়াচ টাওয়ার থেকে গাড়ির গতি, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের উপর নজরদারি চালানোর কথা ছিল। কিন্তু সেসব এখন অতীত। কোথাও এখন সিভিক ভলান্টিয়ার বা পুলিশের দেখা মেলে না। জঙ্গল ঢাকা ওয়াচ টাওয়ারগুলির কঙ্কালসার কাঠামো মাথা উঁচু করে শুধু নিজেদের অস্বিত্ব জানান দিচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে সেগুলি সংস্কার ও উপযুক্ত ব্যবহারের দাবি উঠতে শুরু করেছে।
২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারির কুয়াশা ঢাকা ভোরে দৌলতাবাদ থানার বালিরঘাট বাস দুর্ঘটনায় ৪৩ জন যাত্রীর সলিলসমাধি হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। সেদিনই দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বালিরঘাট সেতুর উপর দাঁড়িয়ে রাজ্যের পূর্ত বিভাগকে প্রতিটি সেতুতে বেরিয়ার ও একটি করে ওয়াচ টাওয়ার তৈরির নির্দেশ দেন। কথা ছিল ওয়াচ টাওয়ারে বসে সিভিক ভলান্টিয়ার বা একজন পুলিশ কর্মী ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে। সেতুর উপর থেকে গাড়ির গতির উপর নজর রাখা হবে। তারজন্য সিসি ক্যামেরা এবং স্পিডোমিটার বসানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো কয়েক মাসের মধ্যে জেলার সমস্ত ছোটোবড়ো সেতুর একপাশে মজবুত ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। ছাউনি দেওয়া ওয়াচ টাওয়ারগুলির কোনোটায় কাচের জানালাও বসানো হয়। তারজন্য রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।
যদিও শুরুতে এই ওয়াচ টাওয়ারগুলির গুরুত্ব ছিল। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হতো। তবে সিসি ক্যামেরা বা স্পিডোমিটার বসেনি। ধীরে ধীরে ওয়াচ টাওয়ারের গুরুত্ব কমতে শুরু করল। উঠে গেল পুলিশ কর্মীদের নজরদারি। মাত্র এক বছরের মধ্যেই নজরদারি শিকেয় উঠল। তারপর থেকে রোদ আর বৃষ্টির জলে ওয়াচ টাওয়ারের কাঠামোয় জং ধরতে শুরু করল। লতাপাতায় ঢেকে গেল সাধের ওয়াচ টাওয়ার। ময়ূরাক্ষী, কুয়ো, দ্বারকা, ভাগীরথীর মতো বড় নদীগুলির পাশাপাশি ছোট সেতুর উপর নির্মীত ওয়াচ টাওয়ারগুলি এখন পরিত্যক্ত। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর সেগুলি সংস্কারের দাবি উঠতে শুরু করেছে। বহরমপুরের বাসিন্দা অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় গুরুত্ব বুঝে ওয়াচ টাওয়ারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছিলেন। কিন্তু নজরদারি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ সেগুলি ধুঁকছে। সংস্কার করা দরকার। বড়ঞার নির্মাল্য সরকার বলেন, ওয়াচ টাওয়ার থাকলে দুর্ঘটনা যেমন কমবে তেমনি মানুষের নিরাপত্তাও বাড়বে। নতুন সরকারের কাছে দাবি করব, ওয়াচ টাওয়ারগুলি কাজে লাগানো হোক। আগাছায় ঢেকেছে ওয়াচ টাওয়ারগুলি। -নিজস্ব চিত্র