সংবাদদাতা, কান্দি: রাজ্যে পালাবদলের পর ফের আগের মতন স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন খড়গ্রাম ব্লকের ঝিল্লি এলাকার বাসিন্দারা। প্রায় ৩০ বছর আগে শেষবার সেখানে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়েছিলেন বলে দাবি। তাই এবার আগের মতন সেখানে ফের ইনডোর বিভাগ চালুর দাবিও করছেন। স্থানীয় বিধায়ক বাসিন্দাদের আশ্বস্তও করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬০ এর দশকে স্থানীয় নোনাডাঙা গ্রামে ঝিল্লি ব্লক প্রাথমিক ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। প্রথমদিকে সেখানে চারজন চিকিৎসক সহ নার্স ও গ্রুপ ডি কর্মীরাও ছিলেন। পরিষেবা পেতেন মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের অন্তত ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছোটখাটো অপারেশনও করা হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এই সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল নয়ের এর দশক পর্যন্ত। ২০০৪ এর পর ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম, হাসান আলি, প্রদীপ মার্জিত প্রমুখ বলেন, শেষদিকে মাত্র দুইজন ডাক্তার এখানে আসতেন। পরে শুধু হোমিওপ্যাথি ডাক্তার আসতেন। এরপর সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ তাঁরা বাবা কাকার কাছে শুনেছেন একসময় এখানে জটিল রোগেরও ভালো চিকিৎসা হত। তাই রাজ্যে পালা বদলের পর তাঁরা ফের এখানে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা পেতে চাইছেন।
এদিকে কয়েকবছর আগে সেখানে একটি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু হলেও সেটি বাসিন্দাদের দাবি মেটাতে পারেনি। কারণ ওই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেমন ইনডোর বিভাগের সুবিধা নেই। তেমনি প্রতিনিয়ত ডাক্তারও থাকেন না। স্থানীয় বাসিন্দা হাইদার শেখ বলেন, সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারবাবু সপ্তাহে মাত্র একদিন আসেন। তাতে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের সমাধান হতে পারে না।
বাসিন্দাদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০৮-০৯ বর্ষে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরনো ভবনের পাশেই ফের নতুন করে একটি ভবন তৈরি হয়। দোতলা ওই ভবনের পরিকাঠামোও দারুণভাবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি চালু না হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে। স্থানীয় ঝিল্লি পঞ্চায়েত সদস্য সিপিআইএমএল (লিবারেশন) দলের বুলটি বিবি বলেন, জেলা পরিষদের তৈরি ভবনটি কোন কাজেই লাগানো গেল না। শুধু শুধু সরকারের অর্থ ব্যয় হল। এখন ওই বিল্ডিং থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছে। ওই বিল্ডিংও আর কোনো কাজে লাগবে না। তাই নতুন সরকারের কাছে বাসিন্দারা ফের সেখানে ইনডোর পরিষেবা পাওয়ার জন্য লিখিত দাবি জানিয়েছেন। এনিয়ে খড়গ্রাম ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ঝিল্লির ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও আমাদের নজরে রয়েছে। পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে এর প্রস্তাবও পাঠানো রয়েছে। আশা করি ওখানেও ইনডোর বিভাগ চালু হবে। খড়গ্রাম বিধায়ক বিজেপির মিতালী মাল জানিয়েছেন, ঝিল্লি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালুর ব্যাপারে বিধানসভায় প্রশ্ন তোলা হবে। এমনকি সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করা হবে।