


সিঙ্গাপুর ও নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার কথা মেনে নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে ঠিক কতগুলি জেট ভেঙে পড়েছে, সেই তালিকায় রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। সেই সঙ্গে দুই দেশ পরমাণু যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে যে দাবি করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা অলীক কল্পনা বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা ডায়লগে অংশ নিয়েছেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান। সেই আলোচনার ফাঁকে ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর এই আধিকারিক বলেন, ভারতের ছ’টি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে বলে পাকিস্তান যে দাবি করছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’।
ভারতের কতগুলি বিমান ধ্বংস হয়েছে? এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে অনিল চৌহান বলেন, ‘সংখ্যাটা বড় কথা নয়। জেট ধ্বংস হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কেন সেগুলি ভেঙে পড়ল। কোথায় ভুল-ত্রুটি হয়েছিল। ভালো বিষয় হল, ট্যাকটিকাল ত্রুটিগুলি আমরা বুঝতে পেরেছি। আমরা সেগুলি শুধরে নিয়েছি। দু’দিন পর ফের আমাদের সব জেট ওড়ানো হয়েছে। বহু দূরের (লং রেঞ্জ টার্গেট) নিশানায় আঘাত হানা হয়েছে।’
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার সত্যতা নিয়ে সরকার বা সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তর থেকে এতটা স্পষ্ট জবাব এর আগে আসেনি। ঘটনাচক্রে, রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির জল্পনা নিয়ে ভারতের কাছে ফ্রান্সের তরফে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেও রিপোর্ট সামনে আসছে। ভারত-পাক সংঘাত পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াচ্ছিল বলে যে দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প করছেন, অনিল চৌহান তা সটান খারিজ করে দিয়েছেন। ভারতের এই শীর্ষ সামরিক কর্তার বক্তব্য, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি চিরাচরিত অপারেশন আর পরমাণু যুদ্ধের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার পরিস্থিতি সামলাতে যোগাযোগের মাধ্যমগুলি সর্বদা খোলাই থাকে। উত্তেজনা সপ্তমে চড়ে গেলেও তা কমানোর অন্য বহু পথ থাকে। এজন্য পরমাণু অস্ত্রে হাত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’ অনিল চৌহান বলেছেন, ‘চীন সহ অন্যান্য দেশ থেকে পাকিস্তান যেসব অস্ত্রশস্ত্র পেয়েছিল সেগুলি কাজে দেয়নি। পাকিস্তানের ৩০০ কিলোমিটার ভিতরে উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা এয়ারফিল্ডেও আমরা নিখুঁতভাবে আঘাত করেছি।’
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ স্তর থেকে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার পর শনিবার কংগ্রেস চাপ বাড়িয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের দাবি, ‘অপারেশন সিন্দুরে’ সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত বহর কতখানি, এবার তা স্পষ্ট করুক সরকার। কার্গিল যুদ্ধের পর সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবারও তেমন কোনও কমিটি গঠন করা হবে কি না, সরকার তা জানাক।