


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: লালকেল্লা থেকে পুরীর জগন্নাথ মন্দির, জনবহুল রেলওয়ে স্টেশন কিংবা এয়ারপোর্ট—ফের জঙ্গি নিশানায় ভারত। কয়েকদিন আগেই সামনে এসেছে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ‘শিখ ফর জাস্টিস’ কমান্ডার গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনের ভিডিও বার্তা। তার হুমকি, আসন্ন ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে ধ্বংস দেখার জন্য যেন প্রস্তুত থাকে ভারত। এর আগেও দফায় দফায় নানাবিধ হুঁশিয়ারি দিয়েছে পান্নুন। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের আগে কোনও হুমকিকেই লঘুভাবে নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এসেছে গোয়েন্দা রিপোর্ট, সন্দেহজনক ‘মুভমেন্ট’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু সবথেকে উদ্বেগজনক বিপদসংকেত মিলেছে বুধবার জগন্নাথধাম পুরী থেকে। জগন্নাথ মন্দিরের নিকটেই, পরিক্রমা প্রকল্প মার্গ সংলগ্ন বুধি মা ঠাকুরানি মন্দির গাত্রে পাওয়া গিয়েছে দেওয়াল লিখন। যেখানে বলা হয়েছে, জঙ্গিরা মন্দির ধ্বংস করে দেবে। সঙ্গে একঝাঁক ফোন নম্বর। তাতেই পুরীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। দুপুরেই আটক করা হয়েছে রঘুনাথ সাহু নামে এক ব্যক্তিকে। পুলিসের কাছে দেওয়াল লিখন লেখার কথা স্বীকারও করেছে সে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সে নিজে থেকেই এরকম একটি বার্তা দেওয়ালে লিখল কেন? তবে কি হাই সিকিওরিটি জোনে সিসিটিভি এবং কঠোর প্রহরা থাকায় ধরা পড়ার ভয়েই তাকে কাজে লাগিয়েছে অন্য কোনও চক্রান্তকারী? খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী টিম।
এসবের মধ্যেই দিল্লিতে বড়সড় হামলার প্ল্যানের ‘ইনপুট’ এসেছে গোয়েন্দাদের কাছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লায় হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী সহ প্রায় গোটা মন্ত্রিসভা এবং ভারতের সামরিক বাহিনীর কর্তারা। সঙ্গে বিদেশি অতিথিরাও। তাই এদিন সকাল থেকে দিল্লিজুড়ে প্রবল পুলিসি তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। পুরনো দিল্লি এলাকার নিরাপত্তা কার্যত নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। এদিন থেকেই জারি হয় চাঁদনি চক, দরিয়াগঞ্জ অঞ্চলে দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশিকা। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বহু রাস্তা ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সকাল থেকে তীব্র যানজটে অবরুদ্ধ ছিল রাজধানী।
এনএসজি কমান্ডো, দিল্লি পুলিস, আধা সামরিক বাহিনী, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) এদিন থেকে দিল্লিজুড়ে রাস্তার দখল নিয়েছে। ১৫ আগস্ট সকালে এয়ারপোর্টে উড়ান বন্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকাও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তানের শাসক ও জঙ্গি উভয় পক্ষই ক্ষিপ্ত। তাই প্রতিশোধ নেওয়ার প্ল্যান করা হয়েছে। ১৫ আগস্টই ভারতকে আঘাত করার সেরা ক্ষণ বলে মনে করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। তাই চলছে প্রাণপণে ঘুঁটি সাজানোর চেষ্টা!