নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসের গোড়ায় ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দলের সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীদের ‘তোলাবাজি-কাটমানি’ সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও, রাজ্য সভাপতির সেই হুঁশিয়ারিতে যে বিশেষ কর্ণপাত করেনি ‘কার্যকর্তারা’, তা স্পষ্ট হয়েছে। ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যেই দলের একাংশের তোলাবাজি-কাটমানি অভিঘাতে নাজেহাল বিজেপি। তারসঙ্গে ইদানিং যুক্ত হয়েছে বাড়ি, জমি, দোকান ‘দখলমুক্ত’ করিয়ে দেওয়ার ‘পারিশ্রমিক’ এবং আসন্ন পুরভোটের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ‘অ্যাডভান্স’ আদায়। নিত্যদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়ছে পদ্মপার্টির রাজ্য দপ্তরে। অভিযোগের পাহাড় জমছে শমীকবাবুর কাছেও। এই আবর্তে মঙ্গলবার দলের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে জেলায় জেলায় ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ পাঠিয়ে ফের শমীকের বার্তা—‘দুর্নীতির দায় দল কখনও নেবে না।’ প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়ায় এক সভায় সময়সীমা বেঁধে দিয়ে শমীকের হুঁশিয়ারি ছিল—‘শুধরে যান! নয়তো বুঝিয়ে দেওয়া হবে, বিজেপি কী জিনিস!’
এদিন চিঠির আদলে পাঠানো হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে শমীকের হুঁশিয়ারির নির্যাস—‘জরুরি সতর্কবার্তা: সততা, স্বচ্ছতা ও আদর্শই আমাদের মূল চালিকাশক্তি।’ বঙ্গ বিজেপির সভাপতি লিখেছেন, ‘অতি সম্প্রতি চিঠি ও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের তথ্য আমার নজরে এসেছে। বুথস্তর থেকে রাজ্যস্তর পর্যন্ত যেকোনো সদস্যের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য। দলের নীতির বাইরে গিয়ে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অনৈতিক বা দুর্নীতির কাজের সাথে যুক্ত হন, দল তার দায়ভার কখনই নেবে না। ’ এই হুঁশিয়ারির সঙ্গেই দলের সমস্ত স্তরের কর্মী-নেতৃত্বের জন্য তিনটি নির্দেশ জারি করেছেন শমীক। তাঁর নিজের লেখায় যা ‘কঠোর নির্দেশ’। সেগুলি হল ১) দুর্নীতি বা অপকর্মের সামান্যতম প্রমাণ মিললে, পদ বা অবস্থান নির্বিশেষে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ২) ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলের ভাবমূর্তি ও কর্মিদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ যেন ক্ষুন্ন না হয়, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকুন এবং ৩) সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রেখে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করাই প্রতিটি কার্যকর্তার একমাত্র দায়িত্ব। তোলাবাজি-কাটমানির ভূরি ভূরি অভিযোগে জেরবার বঙ্গ বিজেপি প্রধানের আর্তি—‘আসুন, সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দলের সম্মান-অক্ষুন্ন রাখি।’ বিজেপি সূত্রে খবর, একদিকে সভাপতি সতর্ক করছেন, অন্যদিকে তোলাবাজি-কাটমানি আদায়ও সমানতালে চলছে। চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি ও কাটমানি আদায়ের অভিযোগে কমপক্ষে ২৫-৩০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে মণ্ডল সভাপতি ও অন্য পদাধিকারীদের বিরুদ্ধেও। এই আবর্তে ফের বঙ্গ বিজেপির সভাপতির নতুন সতর্কবার্তা দলীয় স্তরে কতটা ফলপ্রসূ হয়, তাতেই এখন নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।