


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ভোটের বাদ্যি বেজে যাওয়ার পর জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লেখা। দলের প্রতীক থেকে প্রার্থীর নাম, কোথাও ছড়া দিয়ে ভরে উঠছে প্রাচীর। গ্রামাঞ্চল এবং শহরের অলিগলি, পাড়ায় পাড়ায় দেওয়াল লেখা চলছে। এর ফলে খুশি শিল্পীরা। রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের বুক করে নিয়েছে। শিল্পীরা লেখা শুরুও করে দিয়েছেন।
ভোট প্রচারের শক্তিশালী মাধ্যম হল দেওয়াল লিখন। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে দেওয়াল দখল এবং দল বেঁধে লিখতে এবং শিল্পীকে সাহায্য করেন রাজনৈতিক কর্মীরা। ফলে কোনো আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়াল লিখনের প্রাথমিক কাজ শুরু করে দেন কর্মীরাই। পরে হাত লাগান শিল্পীরা। দলগুলি জানিয়েছে, প্রতিদিনের হিসেবে কিংবা দেওয়াল অনুযায়ী শিল্পীদের লেখার জন্য বুক করা হয়। শিল্পীদের বক্তব্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিন বা চারজনের দল রাজনৈতিক দলগুলির চাহিদা মত দেওয়াল লিখে থাকে। অন্যান্য সময় চাহিদা থাকে না। কিন্তু ভোট এলে চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। এর ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে লাভবান হন। শ্যামপুরের শিল্পী প্রদীপ গুড়িয়া বলেন, ‘দৈনিক দেড় হাজার টাকা নিয়ে দেওয়াল লিখছি। আমার সঙ্গে দু’জন লিখছেন। সাধারণত সকাল ছ’টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত দেওয়াল লেখা চলে। মোটামুটি আটটার মতো দেওয়ালে লেখা হয়। অনেক সময় গোটা দেওয়াল নিয়ে চুক্তি হয়। সেই মত লিখতে হয়।’ রাজনৈতিক দলগুলি মনে করে গ্রামাঞ্চলে প্রচারের ক্ষেত্রে এখনও দেওয়াল লিখনের প্রভূত চল। দেওয়ালের লেখা সহজেই মানুষের চোখে পড়ে। একবার লিখলে দীর্ঘসময় নষ্ট হয় না। দেওয়াল লিখন মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্যই শিল্পীদের দিয়ে লেখানো হয়।