নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আলিপুরে অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বহু ইভিএম পুড়লেও রক্ষা পেয়েছে ভিভিপ্যাট। বিল্ডিংয়ের ন’তলার পিছনের দিকে যেখানে আগুন লেগেছিল, সেখানেই কয়েকটি ঘরে রাখা ছিল ভোটযন্ত্রগুলি। ফলত পুড়ে ছাই হয়ে যায় কয়েক হাজার ইভিএম। কিন্তু ভিভিপ্যাটগুলি সেখানে ছিল না। সেগুলি রাখা হয়েছিল ওই তলেরই সামনের দিকের ঘরে। সেদিকে আগুন ছড়ায়নি। সেখানে বাইরের দিকের দেওয়ালে আগুনের হলকায় কালো দাগ হয়ে গেলেও ভিতরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সোমবার প্রতিটি দপ্তরের অফিসের প্রধানরা নিজ নিজ ঘরে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু করেন। এদিন সকাল থেকে আধিকারিকরা বিভিন্ন তলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। যেখানে যতটুকু অক্ষত রয়েছে, সবই নামিয়ে আনা হয়। যেমন, কৃষি বিভাগের আধিকারিকরা কম্পিউটার, সিপিইউ নিয়ে নেমে আসেন। বন বিভাগের কর্মীরা বিভিন্ন ফাইল ও সিপিইউ নিয়ে আসেন নীচে। অগ্নিকাণ্ডের দিন যে কয়েকজন আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন হকারও। তাঁকে এদিন আলিপুর থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে খবর। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুন লাগার সময় কোথায় ছিলাম, কী দেখেছি—এরকম সাধারণ কিছু প্রশ্নই করা হয়েছে আমাকে।’
গত বুধবার বিধ্বংসী আগুন লাগে আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে। সেই ঘটনায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চর্চা চললেও যাবতীয় কৌতূহল কেন্দ্রীভূত হয় ন’তলা নিয়ে। কারণ, সেখানেই মজুত করে রাখাছিল ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট। জেলা প্রশাসন দমকলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, অষ্টম তলের বিভিন্ন অফিসঘর যখন দাউদাউ করে জ্বলছিল, সেই আগুনের তাপ দীর্ঘক্ষণ ধরে সরাসরি লাগছিল সিলিংয়ে। তার উপরের ঘরেই রাখা ছিল ইভিএমগুলি। প্রবল তাপের কারণে কোনোভাবে এক বা একাধিক ভোটযন্ত্রের ব্যাটারি বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। আর তা থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ন’তলায়। প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। ফরেনসিক দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশ্য প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আপাতত জেলা পরিষদ বিল্ডিংয়ে কোনো কাজ হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে যেসব দপ্তরের অফিস ছিল, (যেমন শিক্ষা, উদ্যান পালন, বন, কারা, জেলা পরিষদ প্রভৃতি) সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।