Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোট-সক্রিয়তা এজেন্সির! ফের ধৃত জীবনকৃষ্ণ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পর এবার ইডির হেফাজতে, জেলায় জেলায় হানা

হয়তো কাকতালীয়। হয়তো লোকসভায় ‘মন্ত্রী অপসারণ’ বিল পেশের ঠিক পরের ঘটনাক্রম। কিন্তু বাস্তব হল, গত কয়েক বছরের ‘ট্রেন্ড’ বজায় রেখে ঠিক ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই নড়েচড়ে বসল এজেন্সি!

ভোট-সক্রিয়তা এজেন্সির! ফের ধৃত জীবনকৃষ্ণ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পর এবার ইডির হেফাজতে, জেলায় জেলায় হানা
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও কলকাতা: হয়তো কাকতালীয়। হয়তো লোকসভায় ‘মন্ত্রী অপসারণ’ বিল পেশের ঠিক পরের ঘটনাক্রম। কিন্তু বাস্তব হল, গত কয়েক বছরের ‘ট্রেন্ড’ বজায় রেখে ঠিক ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই নড়েচড়ে বসল এজেন্সি! সিবিআইয়ের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনে থাকা বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে এবার গ্রেপ্তার করল ইডি। সোমবার সকালে তাঁর আন্দি গ্রামের বাড়িতে সিআরপি জওয়ানদের নিয়ে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চলে। সেই সময় সুযোগ বুঝে বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বিধায়ক। দৌড়ে পালানোর সময় কচুবনের পাঁকে বিধায়কের পা আটকে যায়। এরপরই সিআরপি জওয়ানরা তাঁকে কাদা মাখা অবস্থাতেই ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখানেই শেষ নয়। দু’বছর আগের ‘স্মৃতি’ও ফিরিয়েছেন বিধায়ক। তখন সিবিআই হানা পর্বে মোবাইল ফোন ছুড়ে পুকুরে ফেলেছিলেন তিনি। অভিযোগ, এবারও সেই এক কাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করেন জীবনকৃষ্ণবাবু। ছুড়লেও তাঁর মোবাইল দু’টি জলে পড়েনি। পুকুরপাড়ে ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। তা উদ্ধার করেছে ইডি। মোবাইল দু’টি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। আধিকারিকদের দাবি, বিধায়ককে গ্রেপ্তার করার জন্য মোবাইল ফোনই যথেষ্ট। 

Advertisement

তবে ভোট আসতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির নয়া সক্রিয়তায় অন্য অঙ্ক দেখছে তৃণমূল। এদিন জোড়াফুলের তরফে একটি ভিডিও তুলে ধরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বিজেপির ফর্মুলা হল ই-২। একটি ‘ই’তে ইলেকশন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। আর একটি ‘ই’ অর্থাৎ ইডিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের দমন।’ 
এদিন মহিষগ্রামে বিধায়কের গাড়ির চালক ও এক ব্যাঙ্ক কর্মীর বাড়ি, রঘুনাথগঞ্জের পিয়ারাপুরে তাঁর শ্যালক নিতাই সাহা এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তাঁর পিসিমা স্থানীয় কাউন্সিলার মায়া সাহার বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। শ্যালকের বাড়ি থেকে দু’টি স্যুটকেস বোঝাই নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। মায়া সাহাকে নথিপত্র সমেত আগামী ২৮ আগস্ট ইডি’র কলকাতা দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার এদিন সকালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ‘ঘনিষ্ঠ’ প্রসন্ন রায়ের শ্বশুরবাড়ি পুরুলিয়া শহরে নিমটাঁড় এলাকাতেও হানা দেয় ইডি। 
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই হানা দিয়েছিল জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে। সেদিন দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেটাও ছিল লোকসভা ভোটের আগে। ওই মামলায় গত বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এরপর নিজের বিধানসভা এলাকায় সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য বীরভূমের এক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছিল। সেই সূত্র ধরেই এবার আরও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পৌঁছয় জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে। টানা ছ’ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরেই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। তোলা হয় ইডি’র বিশেষ আদালতে। শনিবার পর্যন্ত জীবনকৃষ্ণকে ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক প্রশান্ত মুখোপাধ্যায়। বিধায়কের বাবা বিশ্বনাথ সাহা বলেন, ‘বিধায়ক হওয়ার পর দুর্নীতিতেই বিপুল সম্পত্তি করেছে ও।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ